বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোবিন্দগঞ্জের মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে বাসে করে গাইবান্ধা শহরে আসেন সাঁওতালরা। এরপর পলাশবাড়ী সড়কের এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের পলাশবাড়ী সড়কের ডিসি কার্যালয়ের সামনে দুপুর ১২টায় অবস্থান কর্মসূচিতে বসে। এতে তির-ধনুক, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে দুই শতাধিক সাঁওতাল নারী-পুরুষ অংশ নেন। কর্মসূচির আয়োজন করে গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মারুফ, গাইবান্ধা আদিবাসী-বাঙালী পরিষদের আহ্বায়ক আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির ও সদস্যসচিব মোরশেদ হাসান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্র সরেন, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুফল হেমব্রম, সদস্য প্রিসিলা মুরমু, ব্রিটিশ সরেন, মাথিয়ার্স মার্ডি প্রমুখ। তাঁদের দাবি, তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় তাঁদের বাপ-দাদার জমিতে ইপিজেড নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

default-image

রংপুর চিনিকল সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। এই জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। একসময় চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ হলে সাঁওতালরা দফায় দফায় এই জমি দখল করেন। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব জমিতে উচ্ছেদ করতে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল—শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।

এই পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) কর্তৃপক্ষকে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেপজা সাহেবগঞ্জ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা এখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছেন। চিনিকলের জমিতে ইপিজেড নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি। চিনিকলের জমিকে বাপ-দাদার সম্পত্তি দাবি করে তা ফেরত পেতে এই কমিটি গঠন করেন সাঁওতালরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবিতে তাঁরা ছয় বছর ধরে আদালতসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু সবাই বিচারের নামে শুধু টালবাহানা করে যাচ্ছে। সাঁওতাল হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের কেউ গ্রেপ্তার করে না। এ নিয়ে সাঁওতালদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে দেশে ছোট ছোট ঘটনা সংশ্লিষ্টদের নজরে এলে তাঁর দ্রুত বিচার হয়। আর সাঁওতাল হত্যার ঘটনা দেশ-বিদেশে তোলপাড় হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়ছে না। কারণ, এখানে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করছে।

সরকারের প্রতি তিন সাঁওতাল হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করতে এবং জমি ফেরতের পাশাপাশি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবি জানান বক্তারা। তাঁদের সাফ কথা বলেন, সাঁওতালদের রক্তে ভেজা জমিতে ইপিজেড করতে দেওয়া হবে না।

সাঁওতালদের কাছ থেকে স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি জানাবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন