স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। সড়কটি মাটির ছিল। তাঁদের দুর্ভোগের কোনো সীমা ছিল না। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আগের মাটির সড়কে শুধু ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ভরাট করা হয়েছে। অথচ প্রথমে সড়কে মাটি কাটার কথা ছিল। তারপর বালু ভরাটের কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ভরাট করেছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওমির উসমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নূরে আলম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ওই সড়কে কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হয়নি। কয়েক দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন টাকা চেয়েছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ার কারণে তাঁরা এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

জামালপুরের এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, সড়কটি নির্মাণে বরাদ্দ ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। কাজটি শুরু হয়েছে গত বছরের ১৭ মার্চ এবং শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ২২ মার্চ। কাজটি করছে এমএমসি এবং মেসার্স ওমির উসমান ট্রেডার্স যৌথভাবে। বর্তমানে ওই সড়কে খোয়া ফেলার কাজ চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ধরাটা অনেক কঠিন। কারণ, স্থানীয় লোকজন কাজের ধরনগুলো জানেন না। যখন সড়কে নিম্নমানের খোয়া দেওয়া হচ্ছিল। তখনই স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। স্থানীয় এক ব্যক্তি বিষয়টি জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে (এলজিইডি) জানান। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কিছু খোয়া সরিয়ে নেয়। কিন্তু অনেক স্থানে আগের খোয়াই রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সামছুল হক বলেন, সেখানে এক গাড়ি নিম্নমানের খোয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেটা গত সোমবার ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ওই সব খোয়া সরানোর পর আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। সঠিকভাবেই সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।

সড়ক নির্মাণে প্রথমে মাটি কাটার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটি কাটেনি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সামছুল হক বলেন, সেখানে মাটি পাওয়া কঠিন। তারপরও দুই পাশ দিয়ে মাটি দেওয়া হয়েছে। সড়কের মাঝখানে বালু দেওয়া হলে, সেটা আরও শক্তিশালী হয়। নতুন মাটি দেওয়া হলে, একই বছর কাজ করা যাবে না। তারপরও কারও কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন