গাইবান্ধা শহরে সড়ক নির্মাণের জন্য স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে। গতকাল দুপুরে
গাইবান্ধা শহরে সড়ক নির্মাণের জন্য স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে। গতকাল দুপুরেপ্রথম আলো

গাইবান্ধা জেলা শহরে চার লেন সড়ক নির্মাণের জন্য দুই পাশের স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে। ভবনমালিকেরা নিজ উদ্যোগে সেগুলো ভাঙছেন। কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে গত বুধবার দুপুরে দেয়ালের বিমচাপায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের বড় মসজিদ থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর চার লেন কাজের উদ্বোধন করা হয়। চার লেন সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ১৫ কোটি ও জমি অধিগ্রহণের জন্য ১০১ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি চার লেন সড়ক নির্মাণে এর দুই পাশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে দোকানমালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর প্রত্যেক দোকানমালিক নিজ দায়িত্বে শ্রমিক দিয়ে স্থাপনা ভাঙার কাজ করছেন। এসব স্থাপনা ভাঙার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্বও দোকানমালিকদের। কিন্তু এসব স্থাপনা ও ভবন ভাঙার সময় দু-একটি ছাড়া কোথাও কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

এদিকে স্থাপনা ভাঙায় কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না নেওয়ায় গত বুধবার দুপুরে শহরের ডিবি রোডে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পাকা দোকানঘরের বিমচাপায় একজন শ্রমিক ও এক পথচারীর মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধা যুব নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, সড়কের দুই পাশের স্থাপনা ভাঙার সময় কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাই নিচ্ছে না প্রশাসন ও দোকানমালিকেরা। অথচ এসব স্থাপনা ভাঙার সময় শ্রমিক ও পৌর নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা উচিত।

default-image
বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাচারিবাজার এলাকার এক শ্রমিক বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। কী করব, কাজ না করলে যে ভাতের জোগাড় হবে না।’

দুর্ঘটনার জন্য সওজ বিভাগ দায়ী নয়। দোকানমালিকদের সতর্কতার সঙ্গে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। শহরে কয়েকবার মাইকিং করা হয়েছে। তাঁরা শ্রমিক দিয়ে ভবন ভাঙছেন। তাঁদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা উচিত।
মো. আসাদুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী, গাইবান্ধা সওজ

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, বিমচাপায় মৃত্যুর ঘটনার জন্য প্রশাসন দায়ী নয়। কারণ, দোকানমালিক নিজের উদ্যোগে দোকানঘর ভাঙার কাজ করছিলেন। এ ক্ষেত্রে দোকানমালিক ও শ্রমিকদেরই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান চালালে সেখানে প্রশাসনের লোকজন ও পুলিশ থাকে। তাঁদের পাহারায় সতর্কতার সঙ্গে ভবন ভাঙা হয়।

মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা
গতকাল সকালে দোকানঘরের বিমচাপায় মৃত দুজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় অপমৃত্যুর (ইউডি) একটি মামলা করেন মৃত শ্রমিক আজাদ মিয়ার (৪৫) স্ত্রী সাজেদা বেগম। তিনি জানান, ক্ষতিপূরণ বাবদ দোকানমালিক তাঁকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন