বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিন পর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি ফেরেন সুমন ও সোনিয়া দম্পতি। রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁদের একমাত্র সন্তান সোহানের কান্না শোনা যায়। কান্না শুনে সুমনের বাবা জামাল শেখ পাশের ঘর থেকে তাঁদের ঘরে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। ডাকে কেউ সাড়া না দিলে ঘরের কাঠের জানালা ভেঙে ফেলেন জামাল শেখ। দেখেন সুমন রশির সঙ্গে ঝুলছেন। সোনিয়া উপুড় হয়ে চৌকির ওপর পড়ে আছেন। এরপর জামাল শেখের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাঁরা ঘরের দরজা ভেঙে দুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থানায় নিয়ে যায়। আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

কুমারখালী থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে সুমন গলায় রশি পেঁচিয়ে ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়া বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সুমনের বাবা জামাল শেখ বলেন, ছেলে ঘরের ডাবের সঙ্গে রশিতে ঝুলেছিল, আর ছেলের বউ চৌকিতে উপুড় হয়ে পড়ে ছিল। স্থানীয় ডাক্তার এসে তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

সোনিয়ার বাবা লিটন বলেন, মুঠোফোনে খবর পেয়ে রাতেই এসে দেখেন তাঁর মেয়েকে ঘরের বারান্দায় শুয়ে রাখা হয়েছে। আর জামাতাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা কীভাবে মারা গেল, তা তিনি জানেন না। ময়নাতদন্ত করলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

কয়া আবাসনের সভাপতি আজিবর রহমান বলেন, রাত ১২টার দিকে খবর পেয়ে তিনি দৌড়ে গিয়ে দেখেন মেয়েটির গলায় বিদ্যুতের তার জড়িয়ে আছে, ছেলেটি ঝুলে আছেন। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ একটি কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে। রোববার সকালে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন