বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বেলা তিনটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখেন। এতে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়ে।

আসাদুল হক শাহ বলেন, নির্বাচন শেষে চড়াইখোলা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসী অরক্ষিত অবস্থায় ব্যালট পেপারের একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনার পর নির্বাচনের কাজে নিয়োজিতদের যোগসাজশে যে ভোট কারচুপি ও ডাকাতি হয়েছে, সেটি নিশ্চিত। ওই দিন রাতেই এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করা হয়েছে। এরপর ফল ঘোষণা স্থগিতও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে অন্য প্রার্থীদের অজান্তে ভোররাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুম রেজাকে কীভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো, সেটাই প্রশ্ন।

আসাদুল হক শাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘মাসুম রেজা এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ভাতিজা। এই প্রভাব খাটিয়ে ওই দিন ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যালট বস্তাবন্দী করে ফেলে দিয়ে নিজের সরবরাহকৃত ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়েছে।’

এদিকে আরেক পরাজিত প্রার্থী মুরাদ হোসেন প্রামাণিক বলেন, ফলাফল বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন ও দারোয়ানী বাজারের সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দেওয়া না হলে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন বাতিলের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হাত থেকে বস্তাটি উদ্ধার করেছিল প্রশাসন। এরপর রাতে ফলাফল স্থগিতের কথা জানানো হলেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোররাতে মাসুম রেজাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’

এদিকে বেলা দুইটার দিকে আন্দোলনকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সেখান থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কর্মী–সমর্থকেরা প্রার্থীদের ঘিরে ধরেন। তখন নেতা–কর্মীরা দাবি জানান, জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে এসে তাদের আশ্বস্ত না করা পর্যন্ত তাঁরা প্রার্থীদের কোথাও যেতে দেবেন না।

এ অবস্থায় বেলা তিনটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখেন। এতে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়ে।

পরাজিত প্রার্থীদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ফলাফল বাতিল করার সুযোগ নেই। তাঁরা চাইলে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা

পরে বেলা ৩টা ২০ মিনিটে জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সাড়ে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তাই প্রার্থীরা আমার কাছে যে অভিযোগ করেছেন, সেটি আমি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে তাঁদের আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। বিষয়গুলো তাঁদের বোঝানোর পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।’

এদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পরাজিত প্রার্থীদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ফলাফল বাতিল করার সুযোগ নেই। তাঁরা চাইলে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন