বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কমর আলী ও আলী আহমদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য হলেন হোসাইন আহমদ। গত নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন একই গ্রামের মো. কমর আলী। তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন হোসাইন আহমদের প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই আলী আহমদ। কিন্তু পাড়ার সবাই মিলে বৈঠক করে তাঁদের মধ্যে একজনকে প্রার্থী হতে বলেন। তখন সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোসাইন আহমদ প্রার্থী হন। সে দিনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার হোসাইনের বদলে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল আলী আহমদের।

যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান তাহলে বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়দের পক্ষ থেকে নির্বাচন কার্যালয়কে জানাতে হয়। পরে নির্বাচন কার্যালয় থেকে একজন মাঠকর্মী সেটির তদন্ত করে দেখেন। তাঁর যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আলী আহমদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকায় তাঁর নম্বরের খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন, তাঁর নামই নেই। পরে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি পরামর্শ দেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ করার। পরে তিনি সেখানে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন। এ কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে। পরে তিনি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেন।

একইভাবে তিন দিন আগে কমর আলী খোঁজ নিয়ে দেখেন, ভোটার তালিকায় তাঁরও নাম নেই। স্থানীয় এক দোকানে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটে ভোটার–সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করলে প্রথমে তাঁর বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, একই কারণে তাঁর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পেছনে ইউপি সদস্য হোসাইন আহমদ জড়িত। তাঁদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই তিনি এই কাজ করেছেন।
মো. কমর আলী ও আলী আহমদ

জীবিত থেকেও ‘মৃত’ বলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি দুজনই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানকে জানিয়েছেন। চেয়রাম্যান তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ওই দুই ব্যক্তির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পেছনে ইউপি সদস্য হোসাইন আহমদ জড়িত। তাঁদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই তিনি এই কাজ করেছেন। এর সঙ্গে নির্বাচন কার্যালয়ের কেউ জড়িত থাকতে পারেন। নির্বাচন কার্যালয় থেকে বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁদের এ–সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণে তাঁদের নাম বাদ গেছে। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, সেটি তাঁদের বলা হয়নি। এটির দ্রুত সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন দুজন।

এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই। আমি এসব করিনি। মৃত্যুসনদ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই, এটা চেয়ারম্যান সাহেব দেন। অযথা আমাকে এসবে জড়ানো হচ্ছে।
হোসাইন আহমদ, ইউপি সদস্য

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান তাহলে বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়দের পক্ষ থেকে নির্বাচন কার্যালয়কে জানাতে হয়। পরে নির্বাচন কার্যালয় থেকে একজন মাঠকর্মী সেটির তদন্ত করে দেখেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মৃত্যুর কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুসনদও লাগে।

ইউপি সদস্য হোসাইন আহমদ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই। আমি এসব করিনি। মৃত্যুসনদ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই, এটা চেয়ারম্যান সাহেব দেন। অযথা আমাকে এসবে জড়ানো হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ–সৈদেরগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, ‘ওই দুই ব্যক্তি আমাকে বলার পর বিষয়টি নিয়ে বারবার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। সন্তুোষজনক কোনো উত্তর পাইনি। এটা কীভাবে হলো, কে করল, এটা পরিষ্কারভাবে তাঁরা বলেননি। তবে যে বা যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদের শাস্তি হতে হবে।’

ছাতক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান বলেন, এটা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় হয়ে থাকতে পারে। তখন তিনি ছাতকে কর্মরত ছিলেন না। তাই এটা কে করেছেন, সেটা তিনি জানেন না। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আবার নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করছেন। এগুলো অনুমোদনের জন্য কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ১৯টি ইউপিতে নির্বাচন হবে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর। ভোট গ্রহণ হবে আগামী ১১ নভেম্বর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন