সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম বাদী হয়ে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অহিদুল ইসলামসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং পরাজিত প্রার্থী অহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেন। পুলিশ দুটি মামলার প্রধান দুজন আসামি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম, পরাজিত প্রার্থী অহিদুল ইসলামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের মোস্তাকিম, একই গ্রামের রাব্বি, মোহাম্মদ আলী ও রাসেল মোল্লা।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম ধাপে গত বুধবার খাজরা ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে রাত ১০টার বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম জয়লাভ করেন। আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী অহিদুল ইসলাম পরাজিত হন। পরদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি তুয়ারডাঙা সেতুর কাছে পরাজিত প্রার্থী অহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছানোমাত্রই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ডালিমের সমর্থকেরা অহিদুল ইসলামের বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় অহিদুল ইসলাম বাড়ির দোতলা থেকে হামলাকারীদের লক্ষ্য করে তাঁর লাইসেন্সকৃত শটগান থেকে গুলি ছোড়েন।
ভোটের পরদিন সকালে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি তুয়ারডাঙা সেতুর কাছে পরাজিত প্রার্থী অহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছানো পর সংঘর্ষ বাধে।
গুলি ও ইটের আঘাতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম, অহিদুল ইসলামসহ ২৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এ সময় অহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে পাঁচটি রামদা ও কয়েকটি বাঁশের লাঠি জব্দ করা হয়। রাতেই চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম, অহিদুল ইসলামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কবীর বলেন, খাজরা ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনায় শাহনেওয়াজ ডালিম ও অহিদুল ইসলাম গতকাল রাতে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। ডালিম, অহিদুল ইসলামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।