উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মুদাহরপুর গ্রামের অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত গোলাম ওমর ফারুকের স্ত্রী নাসিমা বেগম, একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত লাল মিয়ার স্ত্রী আমেনা আক্তার ও মির্জাপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির তালুকদারের পরিবারের জন্য তিনটি বীর নিবাসের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শুরু হয়। ২১ মার্চ দুপুরে ঠিকাদারের শ্রমিকেরা এই তিনটি বীর নিবাসের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। এই তিনটি ভবনের কাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও সুরকির ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভবনে ডিজাইন পরিবর্তন করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সিসি ঢালাইকাজও সঠিকভাবে করা হয়নি।

মেসার্স জব্বার বিল্ডার্সের ঠিকাদার সুজন ভূইয়া বলেন, আমার ব্যবসায়িক প্রতিনিধি ছুন্নু মিয়াই বীর নিবাসের কাজ দেখভালো করছেন। তিনিই সব জানেন।

তবে ছুন্নু মিয়া বলেন, শ্রমিকদের ভুলের কারণে বীর নিবাসের নির্মাণকাজে কিছুটা ত্রুটি হয়েছিল। তা ঠিক করা হয়েছে। যেটুকু কাজ হয়েছে তাতে মানসম্মত ইট, বালু ও সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। যৎসামান্য উপকরণসামগ্রী নিম্নমানের ছিল। এসব পরিবরর্তন করে আনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কাজগুলো শুরু করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির তালুকদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত লাল মিয়ার স্ত্রী আমেনা আক্তার বলেন, নজরদারি কম থাকায় যেনতেনভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজে কিছু নিম্নমানের উপকরণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, এই তিনটি বীর নিবাসের নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে এগুলো পরিবর্তন করে ঠিকাদারকে মানসম্মত উপকরণসামগ্রী আনার ব্যবস্থা করেছি।

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ঠিকাদারকে পরপর দুবার শোকজ করা হলেও কোনো জবাব পাইনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা না হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন