বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রশিদ খান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বরিশাল বিভাগ) মো. নুরুল হুদা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পটুয়াখালী অঞ্চল) মো. আনোয়ার হোসেন ও প্রকল্প পরিচালক মো. রুহুল আমিন।

আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর সাংসদ মো. শাহজাহান মিয়া, আ স ম ফিরোজ, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ কাজী কানিজ সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো হ‌ুমায়ূন কবির প্রমুখ।

এলজিইডি, পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলা সদরের সঙ্গে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাসহ ভোলার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগে সহজ করতে ২০০৮ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপা-কলাগাছিয়া সড়কের লোহালিয়া নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ৪৬৪ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গার্ডার সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৬ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর কার্যাদেশ নিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণের শুরুতেই ৪ দশমিক ৯৫১ একর ভূমি অধিগ্রহণে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২২ হাজার ৩৭৯ টাকা ব্যয় করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে সেতু নির্মাণের ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ঠিকাদারকে তাঁর কাজের অনুকূলে ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ও সেতু নির্মাণের মোট ব্যয় হয় ২৯ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৩৭৯ টাকা।

এলজিইডি সূত্র জানায়, শুরুতে লোহালিয়া সেতুর উচ্চতা বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছিল ৯ দশমিক ৫৭ মিটার। সেই অনুযায়ী সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তবে লোহালিয়া সেতু অনুমোদনের সময় পায়রা বন্দরের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে লোহালিয়া নদী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করবে। লোহালিয়া সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় তৎকালীন সময়ে সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছিল।

তবে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কয়েক দফা বসা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার সভায় লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।

পায়রা বন্দরের কথা বিবেচনা করে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন পায়রা সমুদ্রবন্দরের স্বার্থে সেতুর উচ্চতা হবে লোহালিয়া নদীর মূল চ্যানেলে ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স (নদীর সর্বোচ্চ পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা) হবে ১৩ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। সেতুর মাঝখানে স্টিলের প্লেট ব্যবহার করা হবে।

‘পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন পিসি গার্ডার সেতুর অসমাপ্ত নির্মাণকাজ সমাপ্তকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই সেতুর মাঝখানে স্টিলের প্লেট বসানো বাদ দিয়ে সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৯১৪ টাকা।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন