গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতে ছয়টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। সর্বশেষ ৬ এপ্রিল একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। এর আগে ২ জানুয়ারি ১টি, ১১ ফেব্রুয়ারি ১টি এবং ১৮, ২১ ও ২৮ মার্চ ৩টি মৃত ডলফিন ভেসে আসে কুয়াকাটা সৈকতে। তা ছাড়া গত চার মাসে সাতটি মৃত অলিভ রেডলি কচ্ছপ ভেসে এসেছে। এর মধ্যে গত ২২ মার্চ ৩টি, ২৫ মার্চ ১টি এবং চলতি এপ্রিলের ৩, ৫ ও ১৬ তারিখ ৩টি কচ্ছপ ভেসে এসেছে কুয়াকাটা সৈকতে। এর আগে ২০২০ সালে ১৮টি এবং ২০২১ সালে ২৪টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে এ সৈকতে। উপকূলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশ-প্রতিবেশ, মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রের নীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিসের ইকো ফিশ-২ প্রকল্পের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য কে এম বাচ্চু জানান, ভেসে আসা ডলফিন ও কচ্ছপগুলোর বেশির ভাগের শরীরে আঘাতের চিহ্ন বা জাল প্যাঁচানো পাওয়া যায়। আবার কোনো কোনোটি সদ্য মারা যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনোটির লেজের অংশ থাকে না, কোনোটির কান থাকে না, কোনোটির পৃষ্ঠদেশে গভীর ক্ষতও দেখা গেছে। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল কুয়াকাটা সৈকতের জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় যে মৃত অলিভ রেডলি কচ্ছপটি পাওয়া গেছে, তার শরীরে পচন ধরতে দেখা গেছে। গত ২৮ মার্চ জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় ভেসে আসা ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এর আগে ২০২০ সালে ১৮টি এবং ২০২১ সালে ২৪টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে এ সৈকতে। উপকূলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশ-প্রতিবেশ, মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রের নীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিসের ইকো ফিশ-২ প্রকল্পের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ট্রলিং জালে সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিনসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। এসব প্রাণী স্থলভাগে তুলে আনা নিষিদ্ধ হওয়ায় সাগরেই ফেলে দিয়ে আসেন জেলেরা।

ওয়ার্ল্ডফিসের ইকো ফিশ-২ প্রকল্পের সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, এসব সামুদ্রিক প্রাণী কেন মারা যাচ্ছে, তার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় এ মুহূর্তে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের রাবনাবাদ চ্যানেলের মোহনা, আন্ধারমানিক নদের সাগর মোহনা এবং চর বিজয়সংলগ্ন সাগরবক্ষে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। যেখানে মাছ বেশি থাকে, সেখানে সামুদ্রিক এসব প্রাণীর বিচরণও বেশি থাকে। এসব এলাকায় জেলেদের মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ডলফিন, কচ্ছপজাতীয় সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষা করা যেতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাজেদুল হক ডলফিন ও কচ্ছপ মরে ভেসে আসার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপ সাধারণত মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে এবং মাছ ধরার ট্রলারের পাখায় কাটা পড়ে মারা যায়। মৃত্যুর পর শরীরের ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন দেখে তা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক দূষণ (প্লাস্টিক ও অব্যবহৃত পরিত্যক্ত জাল), সামুদ্রিক পরিবেশে পানির লবণাক্ততা, জৈব ও ভৌত গুণাগুণের পরিবর্তন এবং আবাসস্থলের চরম বিপত্তির কারণে ডলফিন ও কচ্ছপ মারা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বরিশালের মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ–প্রকল্প পরিচালক ও সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞ মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জালে ডলফিন আটকা পড়লে জেলেরা ঠিকভাবে তা না ছাড়িয়ে প্যাঁচানো জালসহ কেটে দেন, এতে ডলফিন মারা যায়। তা ছাড়া জেলেরা মাছ ধরার সময় ট্রলারে থাকা কোনো শক্ত দণ্ড দিয়েও ডলফিনের গায়ে আঘাত করে থাকেন। এতেও ডলফিন মারা যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন