গত শনিবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন মতলব দক্ষিণের সদর বাজার, বরদিয়া আড়ং, মুন্সীরহাট, নারায়ণপুর, মাছুয়া খাল এবং মতলব উত্তরের ছেংগারচর, আমিরাবাদ, গজরা, এনায়েতনগর, সুজাতপুরসহ কয়েকটি মাছবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ বিক্রেতারা অল্প পরিমাণ ইলিশ নিয়ে বসে আছেন। দাম বেশি হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতা দরদাম করেই ফিরে যাচ্ছেন। প্রয়োজনের খাতিরে বেশি দাম দিয়েও কোনো কোনো ক্রেতাকে দু-একটি ইলিশ কিনতে দেখা যায়।

মতলব দক্ষিণের নবকলস এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিপন মিয়া আজ সকালে ইলিশ কিনতে সদরের মাছ বাজারে আসেন। দাম বেশি হওয়ায় তিনি ইলিশের পরিবর্তে রুই মাছ কিনেছেন। রিপন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এখন বাজারে ইলিশের আকাল দেখা যাচ্ছে। দামও খুব চড়া। এত দামে ইলিশ কেনা সাধ্যের বাইরে। অনেক দরদাম করেও একটি ইলিশও কিনতে পারেননি। ইলিশের পরিবর্তে রুই মাছ কিনেছেন। ইলিশ কিনতে না পেরে তিনি হতাশ।

default-image

ওই বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, এবার বাজারে ইলিশের আমদানি খুবই কম। এ জন্য দামও বেশি। কয়েক দিন ধরে এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০, ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিতে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই বছরের তুলনায় এখন ইলিশের দাম প্রায় দ্বিগুণ।

মতলব উত্তরের এনায়েতনগর বাজারের মাছ বিক্রেতা পবিত্র দাস প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর এ সময়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মণ ইলিশ উঠত বাজারে। বেচাবিক্রিও ভালো ছিল। এবার প্রতিদিন আধা মণ থেকে এক মণ ইলিশ ওঠে। দামের কারণে তা-ও বিক্রি হচ্ছে না। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দু-তিনটার বেশি ইলিশ বিক্রি হয় না।

মতলব উত্তরের আমিরাবাদ এলাকার জেলে প্রিয়লাল বলেন, মেঘনায় জাল ফেলে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না। সারা রাত জাল ফেলে যে কয়েকটা ইলিশ পাচ্ছেন, সেগুলো বিক্রি করে ট্রলারের তেল খরচও মিটছে না। সংসারের খরচও মেটাতে পারছেন না।

মতলব দক্ষিণের মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন ও মতলব উত্তরের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় মেঘনা নদীর অনেক গভীরে চলে গেছে ইলিশ। জেলেদের জালে তেমন ইলিশ আসছে না। খরা পড়লে প্রত্যাশিত ইলিশ পাওয়া যাবে। ক্রেতারাও সহনীয় মূল্যে ইলিশ কিনতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন