default-image

জামালপুর পৌর শহরে তীব্র যানজটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বাসিন্দারা। ইজিবাইকগুলো বিশৃঙ্খলভাবে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র যানজটের কবলে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। যানজটকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে শহরের রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণকাজের ধীরগতি।

শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় জামালপুর শহর। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে কিছুদূর পরপর তীব্র যানজট। সড়কের সব স্থানেই ইজিবাইক। যানজটে আটকা পড়ে অনেকেই পায়ে হেঁটেই যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফুটপাতও নেই। ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানপাট ও গাড়ির পার্কিং। তীব্র যানজট লক্ষ করা যায় শহরের রেলগেটপার, শফি মিয়ার বাজার মোড়, পুরোনো পৌরসভা গেট, দয়াময়ী মোড়, বুড়ির দোকান মোড়, শহীদ হারুন সড়ক মোড়, কথাকলি মার্কেট এলাকা, তমালতলা এলাকা, সকাল বাজার এলাকা, জজকোর্ট এলাকা ও জেনারেল হাসপাতাল এলাকায়। ওই সব মোড় বা এলাকায় সড়কজুড়ে কয়েকটি করে ইজিবাইকের সারি স্থির দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর খুব ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল করছে। ওই সব স্থানে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট করে যানজটে আটকা পড়ে রয়েছে যাত্রীরা। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

জামালপুর পৌরসভা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে জামালপুর শহরে ইজিবাইক চলাচল শুরু হয়। গত ১০ বছরে ইজিবাইকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০১৮ সালে সিদ্ধান্ত হয়, পৌর শহরে লাইসেন্স করা তিন হাজার ইজিবাইক চলাচল করবে। সেই লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্সও দিয়েছে। তবে অবৈধ বাকি সাত হাজার ইজিবাইক শহরে চলাচল বন্ধ করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে এখনো গোটা শহরে প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। প্রতিদিন তীব্র যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে।

ফাতেমা বেগম। বাড়ি শহরের বেলটিয়া এলাকায়। তিনি চিকিৎসক দেখাতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে যাবেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি বেলটিয়া থেকে ইজিবাইকে ওঠেন। বেলটিয়া থেকে হাসপাতালে যেতে মাত্র ২০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু তিনি গেটপার এলাকায় যানজটের মধ্যে ৩০ মিনিট ইজিবাইকে বসে ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই শহর এখন ইজিবাইকের শহরে পরিণত হয়েছে। গেটপার থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত পুরো দুই লাইনে ইজিবাইক। খুব ধীরগতিতে ইজিবাইক চলাচল করে। যানজটের কারণে ঘর থেকে বের হয়ে শহরে আসতে মন চায় না। জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া বের হই না। বছরে পর বছর ধরে এই কষ্ট করতে হচ্ছে। তার মধ্যে গেটপার এলাকার ওভারপাসের কাজের কারণে আরও বেশি যানজট।’

শহরের গেটপার এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন,‘বাসা থেকে বের হলেই চোখে পড়ে তীব্র যানজট। এটা শুধু ইজিবাইকের যানজট। ফলে সঠিক সময়ে কোনো স্থানে পৌঁছানো যায় না। সকাল বাজার থেকে গেটপার এলাকায় সাধারণ সময় মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিটে যাওয়া যায়। কিন্তু যানজটের কারণে এই পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। শহরে ব্যাপক হারে ইজিবাইক। ফুটপাতগুলো গাড়ি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘এক রাস্তার শহর জামালপুর। পৌর শহরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করে। সব মিলিয়ে একটি রাস্তার ওপর ব্যাপক চাপ।

জামালপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. ফজলু আকন্দ বলেন, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে অনেক কিছুই করা হয়েছে। ইজিবাইকচালকেরা খুব দরিদ্র। বেশি কঠোর হলেই তাঁরা কান্নাকাটি করে। তারপরও বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন