বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পন্টুনের সামনের থেকে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আবার লঞ্চভাড়ার সঙ্গে পাঁচ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে ঘাটের টোল বাবদ।
মোহন খান, বিলাশপুর এলাকার বাসিন্দা

ওই ঘাট পূর্ব নাওডোবা-মাওয়া আন্তজেলা খেয়াঘাট নামে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। বাংলা ১৪২৩ সনে ঘাটটির ইজারামূল্য ছিল ৮৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ১৪২৪ সনে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ভ্যাটসহ সরকারি মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকা। ওই সনে সরকারি মূল্যে ইজারা দরপত্র দাখিলে কোনো ব্যক্তি আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

ইজারাদার না পেয়ে ১৪২৪-২৭ সনে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘাট থেকে খাস আদায় করা হয়। পরে ১৪২৮ সনে খাস আদায় স্থগিত করে আবারও ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া করা হয়। ইজারামূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৫ লাখ টাকা। ইজারা পান স্থানীয় পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মনির হোসেন খান। তাঁর সঙ্গে অংশীদার হিসেবে আছেন আরও কয়েকজন।

বর্তমানে ওই লঞ্চঘাটের পন্টুনের কাছে লোক বসিয়ে লঞ্চযাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটে স্বার্থান্বেষী মহলের দৌরাত্ম্য বন্ধ, যাত্রীদের নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধে ২০১৫ সালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব ঘাটের ইজারা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৬ মার্চ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী ৫ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝি-ছাত্তার মাদবর ঘাট (পূর্ব নাওডোবা-মাওয়া আন্তজেলা খেয়াঘাট) ইজারা না দিয়ে যাত্রী পারাপারে লঞ্চের টিকিটের সঙ্গে ঘাটের টোল বাবদ যাত্রীপ্রতি দুই টাকা হারে আদায় করে দৈনিক ভিত্তিতে লঞ্চ মালিক সমিতি বিআইডব্লিউটিএকে পরিশোধ করবে। আদায় করা অর্থের বার্ষিক আয়ের ৩০ শতাংশ জাজিরা উপজেলা পরিষদকে প্রদান করা হবে।

এ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের শরীয়তপুরের মঙ্গলমাঝি-ছাত্তার মাদবর লঞ্চঘাটের ঘাট ইনচার্জ আব্দুল্লাহ ইনাম বলেন, এই ঘাটের পন্টুন, সিঁড়ি ও কাঠের সেতু সবকিছুই বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন। আর এটা ব্যবহারের জন্য লঞ্চ ভাড়ার সঙ্গে যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা টোল আদায় করা হয়। এটি কোনো খেয়াঘাট নয়। এখান দিয়ে শুধু লঞ্চযাত্রীরাই যাতায়াত করে।

আব্দুল্লাহ ইনাম আরও বলেন, ‘টোল আদায়ের কাজটি হচ্ছে লঞ্চঘাটের সীমানার বাইরে। আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে লঞ্চযাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নিয়মবহির্ভূত।’

ওই ঘাট দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন জাজিরার বিলাশপুর এলাকার বাসিন্দা মোহন খান। তিনি বলেন, ‘লঞ্চে ওঠার সময় পন্টুনের সামনের থেকে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আবার লঞ্চভাড়ার সঙ্গে পাঁচ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে ঘাটের টোল বাবদ। কেন আমরা দুই দফায় টোল দেব?’

পূর্ব নাওডোবা-মাওয়া আন্তজেলা খেয়াঘাটের ইজারাদার মনির হোসেন খান বলেন, এখানে ইজারা হয় খেয়াঘাটের নামে। তাই লঞ্চঘাটের, স্পিডবোটের ও ট্রলারের যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এটা নিয়মবহির্ভূত নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন