জবাবে সভায় উপস্থিত পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের মানসিকতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে যে তাঁরা আজ টিপ নিয়ে হইচই করে। চুরি তো বাড়তেই পারে। দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে টিউবওয়েলের মাথা চুরি হতেই পারে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না এলে চুরি আরও বাড়তে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে এ কথার প্রতিবাদ জানান ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. শাহিন হোসেন। ধীরে ধীরে সভায় উপস্থিত অন্য সদস্যরাও প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁর ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মুরাদ হাসান বেগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, জলঢাকা পৌর মেয়র ইলিয়াছ হোসেন, ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, সাবেক যুগ্ম সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম, রেলওয়ে পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন নাহার, ডোমারের ইউএনও শাহিনা শবনম, ডিমলার ইউএনও বেলায়েত হোসেন, কিশোরগঞ্জের ইউএনও নুর ই আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি তাহমিন হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শাহিদ মাহমুদ বলেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। দ্রব্যমূল্য বাড়ার বিষয়ে তিনি বলতে পারেন না। আর মাদকের সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নিজের দায় এড়াতে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। আর টিপ নিয়ে সভার কোনো সদস্যই কথা বলেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ও রকম কোনো কথা হয়নি, মানুষের নৈতিকতার স্খলনের কথা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। আমি বলেছি রডের দাম বাড়ার কথা। রডের দাম বাড়ায় টিউবওয়েলের মাথা চুরি যাওয়ার কথা বলেছি।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, তিনি ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এ জন্য এই মুহূর্তে না জেনে কিছু বলতে পারবেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন প্রথম আলোকে বলেন, সব জিনিসের দাম বেশি এটা ঠিক নয়। বিতর্ক তৈরি করে এমন কোনো কথা সরকারি পর্যায়ে না বলাই ভালো। যদিও পরে তিনি তাঁর ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।