default-image

মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩৩ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আখতার খান। জামানত হারানো এই বিএনপি নেতা পরাজয়ের জন্য দলের একটি অংশের নেতা–কর্মীদের দুষলেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে দেওয়া অভিযোগে ইকবাল আখতার বলেছেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েজন নেতা নৌকার পক্ষে কাজ করার পাশাপাশি প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিয়েছেন।

তবে এ ধরণের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করেছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা। তাঁরা বলছেন, বিএনপির যে অংশটি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা নিয়েছে, ত্যাগী নেতা–কর্মীদের জেল–জুলুম–হয়রানি করেছে, এটা তাঁদের নতুন ষড়যন্ত্র।

১৬ জানুয়ারি মাগুরা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের খুরশীদ হায়দার ৩৯ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিপরীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল আখতার খান পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৯ ভোট।

নির্বাচনের পর ২১ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়রাম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন ইকবাল আখতার। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সদ্য সম্পন্ন মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খুরশীদ হায়দারের পক্ষে প্রকাশ্যে নৌকার ভোট করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান ওরফে কিজিল খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুর রহিম, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সানাউল হক, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন রানা, যুবদলের কর্মী খান মাহাবুবুর রহমান ও সজল খান।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ, দলের এই অংশকে নেতৃত্ব দেন গত সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মনোয়ার হোসেন খান। দলের ওই অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে প্রকাশ্যে বিএনপির বিপক্ষে কাজ করেছে। ইকবাল আখতার অভিযোগ করেছেন, মনোয়ার হোসেন খানের ছোট ভাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কিজিল খান ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নৌকায় সিল মেরেছেন। এ ছাড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন রানা ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকার ভোট কেটেছেন এবং বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টকে মারধর করে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য নেতা–কর্মীরাও বিভিন্নভাবে ধানের শীষের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।

কিছু কিছু অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। উনি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করলে আমরাই ব্যবস্থা নিতে পারতাম।
মো. আকতার হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব

তবে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে উনার (ইকবাল আখতার খান) বাড়িতে পৌর বিএনপির একাধিক বৈঠক হয়েছে। কোনোভাবেই তাঁকে ভোটের মাঠে নামাতে পারিনি আমরা। উনি আসলে একজন নির্বাচনী অতিথি পাখি। আর উনি যে অভিযোগ দিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে সে আসলে অন্য কোন দলের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এসেছেন।’

কেন্দ্রে অভিযোগ দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আখতার খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রার্থী হয়ে মাঠে নামব না, এ কথা কি বিশ্বাসযোগ্য? আমি আসলে দলের কাউকেই পাশে পাইনি। এরপর দলের ওই অংশ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, যে কারণেই ফলাফলে এ বিপর্যয়।’

কেন্দ্রে নেতা–কর্মীদের নামে অভিযোগ পাঠানোয় বিব্রত জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আকতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা–কর্মীর নামে দুটি মামলা দেওয়া হয়। যেসব নেতাদের নামে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই সেই মামলার আসামি। নানাভাবে নেতা–কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, যে কারণে কেউই সেভাবে মাঠে নামতে পারেননি। বিএনপি প্রার্থী যে অভিযোগ করেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত। আকতার হোসেন বলেন, ‘কিছু কিছু অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। উনি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করলে আমরাই ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন