বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাঁধের একটি অংশে হঠাৎ করে বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সংস্কার করা হয়েছে। বাঁধের খোঁজ নিতে রাত দুইটার দিকে মুঠোফোনে কথা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লালের সঙ্গে। ঘটনাস্থল থেকে মোহন লাল বলেন, বাঁধে পানি ও বাতাসের প্রচুর চাপ পড়ছে। ফলে কীর্তনখোলা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বড় ধরনের একটি অংশে ধস দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে শতাধিক শ্রমিক নিয়ে বাঁশ, কাঠ, চাটাই, খড়, মাটি, বালু ও জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষা করা হয়েছে।

খালিয়াজুরী ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী, তিনি ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা রাতভর জেগে বাঁধ রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে থাকলেও এখনো ফসল রক্ষা বাঁধ টিকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পানি এভাবে বাড়তে থাকলে অবস্থা বেগতিক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

default-image

খালিয়াজুরীর আমানতপুর গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া বলেন, ‘এখনো বেড়িবাঁধ টিক্কা আছে, এইডাই আমরার বড় শক্তি ও সাহস। এইবার সময়মতো শক্তিশালী বাঁধ দেওনে ফসল রক্ষা পাইতাছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের লোকজন সব সময় বাঁধে থাকনে এহনো বাঁধ টিক্কা আছে। আমার আত্মীয়বাড়ি ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার থাল হাওরের সব ফসল মাইর গেছে। এই দিক দিয়া আমরা বালা আছি। আর চার–পাঁচ দিন সময় পাইলে সবাই ধান কাইট্টা শেষ করতে পারব।’

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, হাওরে যেসব কৃষক কম মেয়াদি, অর্থাৎ ১৪০ থেকে ১৫০ দিনের ধান লাগিয়েছেন, সেগুলো সব কাটা হয়ে গেছে। তবে বেশি মেয়াদি জাতের ধান এখনো খেতে আছে। এসব ধান এখনো আধা পাকা। এ বছর খালিয়াজুরীর ছোট-বড় ৮৯টি হাওরে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন