নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ এমরান জানান, বন্যার্তদের মধ্যে সংস্কৃতিকর্মীদের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্যা পরিস্থিতিতে সবাইকে জরুরি দ্রব্যসামগ্রী হাতের কাছে ও সংগ্রহে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি জরুরি নম্বর চালু, বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া গ্রহণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে চিকিৎসকদল গঠনসহ সভা শেষে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অসীত ঘোষ বলেন, সভায় উপস্থিত সদস্যরা প্রত্যেকেই তাৎক্ষণিক সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা প্রদান করেন। এই টাকা দিয়ে চাল, ডালসহ শুকনা খাবার সংগ্রহ করে আজ রোববার দুপুরে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া নেত্রকোনা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, তোরীবাজার, আখড়ামোড়, পৌরসভা কার্যালয়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে টাকা সংগ্রহ অভিযান চলবে। দূরের কেউ চাইলে জেলা উদীচীর সভাপতির ০১৭১৮৫১২২৭২ নম্বরে বিকাশের মাধ্যমেও টাকা পাঠানো যাবে।

বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জানান, জেলার কংস, উব্দাখালী, ধনুসহ বেশির ভাগ নদ-নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরি, বারহাট্টাসহ বিভিন্ন উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী। জেলার সঙ্গে কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টাসহ কয়েকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। খালিয়াজুরিতে বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সকাল থেকে সেনাবাহিনী নেমেছে। ২৬৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে ১৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় কন্টোরোম খোলাসহ মেডিকেল টিম নিয়োজিত হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন মানুষসহ গবাদিপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় এরই মধ্যে ২ হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জিআর চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি যথেষ্ট নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন