জেলায় সব মিলিয়ে এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন। টাকার হিসাবে ৩ হাজার ১৫২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হওয়ার কথা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল বলেন, কৃষকের ধান রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবার ২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু খেতের ধান যখন পাকতে শুরু করে, তখন গত ১ এপ্রিল থেকে পাহাড়ি ঢল ও অকালবন্যায় ফসল রক্ষা বাঁধে পানি চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে খালিয়াজুরির ধনু নদের তীরে কীর্তনখোলা বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। তবে পাউবো, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা রাতদিন বাঁধে অবস্থান করে বাঁধ টিকিয়ে রাখায় সক্ষম হন। সবার প্রচেষ্টায় বাঁধ ভেঙে কোনো ফসলহানির ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রমিকদের পাশাপাশি যন্ত্রের সাহায্যে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দ্রুততার সঙ্গে ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। হাওরে ধান না থাকায় এখন নদ-নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করিয়ে মাছের প্রজননের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে জলকপাট খুলে দেওয়া হবে। এতে অন্যান্য জেলার হাওরের বোরো ধানের কোনো রকম ক্ষতি হবে না বলেও জানানো হয়।

অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জিয়া আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ, কৃষি অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন