default-image

নোয়াখালীতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দুই নারীসহ আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চারজনের মধ্যে দুজন নোয়াখালী সদর, একজন কবিরহাট ও একজন বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ৯১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় কোভিড–১৯ রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৩৬। এর মধ্যে মারা গেছেন ৭৪ জন।

আজ শনিবার জেলা সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার চারজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দুজনের বয়স ৬০-৭০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ৭৫ ও অপরজনের বয়স ৯৫ বছর। সিভিল সার্জন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৯১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ৩১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ওই ফলাফল পাওয়া গেছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক অসীম কুমার দাশ বলেন, উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের কামজাদপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন (৯৫) ১১ আগস্ট নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য দেন। ১২ আগস্ট তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। গত শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, হাজেরা খাতুনের পরিবারের আরও ৯ সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সদর উপজেলা করোনা ফোকাল পারসন নিলিমা ইয়াছমিন জানান, উপজেলায় করোনায় সংক্রমিত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন হলেন নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর ইসলামিয়া রোড এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া খাতুন (৭৫)। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ওই পরিবারের আরও ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে জেলা শহরের পশ্চিম মাইজদী এলাকার ইফতেখার হোসেন (৬৭) বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। ১২ আগস্ট তাঁর শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ওই দিন ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও করোনা ফোকাল পারসন সঞ্জয় কুমার পাল জানান, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ফলাহারী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম গত ২২ জুলাই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ২৪ জুলাই তাঁর শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাঁকে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সঞ্জয় কুমার পাল জানান, ৮ আগস্ট মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুল কাশেমের দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ পাওয়া যায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর অসুস্থতা বেড়ে যায়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তখন তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কম ছিল।

দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসার পর মারা যাওয়ার কারণ সম্পর্কে নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের কোভিড হাসপাতালের সমন্বয়ক চিকিৎসক নিরুপম দাশ প্রথম আলোকে বলেন, করোনা নেগেটিভ আসার অর্থ এই নয় যে রোগী সুস্থ হয়ে গেছেন। করোনার সংক্রমণে সম্ভবত ওই রোগীর ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0