এর আগে গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, দলীয় বিরোধের জের ধরে হাসিবুল বাশারকে একই দলের প্রতিপক্ষ হাসানসহ একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলের পথ রোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। ওই ঘটনায় নিহত হাসিবুলের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি হাসান এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল গোপালপুর ইউনিয়নের মহিবুল্লাপুর সেতুসংলগ্ন রাস্তার পাশের খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো কিরিচ, একটি লোহার রড এবং গ্রেপ্তার হাসানের মাছের খামার থেকে দেশে তৈরি একটি এলজি উদ্ধার করে পুলিশ।

শহীদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় পৃথক গ্রুপ সৃষ্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির নাম করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান অভিযুক্ত হাসানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তিনটি ও জয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আদালতে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মহিবুল্লাহপুর ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য হাসিবুল বাশারের ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলাকারীরা হাসিবুলককে কুপিয়ে ও গলা কেটে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন