বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে শহরের মাইজদী বাজার এলাকায় নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজ-সংলগ্ন পুকুরে কুকুরকে গোসল করাতে যান স্থানীয় অনন্তপুর গ্রামের মো. সৌরভ। এ নিয়ে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সৌরভের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এর জেরে সন্ধ্যায় সালিসে বসার সিদ্ধান্ত হয়। একই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে আনোয়ারের তিন বন্ধু ফজলে হুদা ওরফে রাজিব (২২), মো. ওয়াসিম (২৪) ও মো. ইয়াছিন (২৩) নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের ফটকে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালান সৌরভের পক্ষের লোকজন। এ সময় ফজলে হুদা গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। গুলিতে আহত হন ওয়াসিম ও ইয়াছিন। তাঁরাও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত তিনজনই স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত ফজলে হুদার মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা সাত-আটজনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরে আলম ওরফে সাজু, ওমর শরীফ ওরফে সুলতান, ফিরোজ আলম ওরফে বাপ্পিসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এমদাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটির বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ইতিমধ্যে বাদীর সাক্ষী শেষ হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে ফিরোজ আলম ওরফে বাপ্পি ছাড়া বাকি সবাই পলাতক। এর মধ্যে ফিরোজ আলম নিজের নাম পরিবর্তন করে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে আবার দেশে ফিরে কুমিল্লায় আরেকটি অপরাধে জড়ান। সেই অপরাধ মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী কারাগারে আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন