বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ভিডিও চিত্রটি ভাইরাল হওয়ার পর উল্লেখিত চার ব্যক্তিকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আটক করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার বিকেলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তাঁদের ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শুনানি শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠান।

default-image

সূত্র জানায়, অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলির ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তিনটি পক্ষ গত রোববার একই স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার জন্য গত রোববার বিকেলে তিনটি পক্ষই শোডাউন করাকালে সাংসদ একরামুল করিমের পক্ষ, মেয়র শহিদ উল্যা খানের পক্ষ ও শিহাব উদ্দিন শাহিনের পক্ষ ত্রিমুখী ধাওয়া, পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় শিহাব উদ্দিনের এক কর্মী প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে প্রদর্শন করেন, যার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ ভিডিও ক্লিপ পর্যালোচনা করে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনকারী সদর উপজেলার উত্তর কাদিরহানিফ গ্রামের মো. রাফেজকে (২৮) শনাক্ত করে। তাঁর বাবার নাম মৃত মিজানুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় চাঁদাবাজি ও মারামারির ছয়টি মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, রাফেজ তাঁর অনুসারী নন। রাফেজ জেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাংসদ একরামুল করিমের লোক। তিনিই (একরামুল) জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সময় নিজে গুলি করেছেন। তা ছাড়া রাফেজ গুলি করেছেন, এটাও শনাক্ত হয়নি বলে দাবি করেন শিহাব উদ্দিন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা চলাকালে এক পক্ষের কর্মী অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্র দেখে অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া একই ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শনকারী অপর তিনজনকেও শনাক্ত করে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এ-সংক্রান্তে দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে এনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার বিকেলে শহরের জামে মসজিদ মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহিনের অনুসারীদের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংসদ একরামুলের অনুসারীরা মসজিদ মোড়ের উত্তর দিকে, শিহাব উদ্দিনের অনুসারীরা মসজিদ মোড়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।

পাল্টাপাল্টি হামলার ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্রে মসজিদ মোড়ের দক্ষিণ দিকে চার ব্যক্তির হাতে অস্ত্র দেখা যায়। এর মধ্যে তিনজন ছিলেন সড়কের ওপর, আর একজন ছিলেন সড়কের পূর্ব পাশের ফুটপাতের ওপর। সড়কের ওপর থাকা তিন অস্ত্রধারীর মধ্যে সাদা জামা পরা একজন প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য একাধিক গুলি ছোড়ে। বাকি দুজনের রঙিন টি-শার্ট পরা একজন ও খয়েরি রঙের জামা পরা একজন গুলি করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে অস্ত্র হাতে দৌড়ে দক্ষিণ দিকে (পৌরবাজার) পালিয়ে যান। একই সময় সাদা জামা পরা আরেকজন সড়কের পূর্ব পাশের ফুটপাতের ওপর দিয়ে দৌড়ে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন