default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নিহত বুরহানের বাবা নুরুল হুদা ওরফে নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। তবে মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলা দায়েরের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক। আজ দুপুর ১২টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিক বুরহানের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রেকর্ড করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মীর জাহেদুল বলেন, ইতিমধ্যে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে চাপরাশিরহাট বাজারে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে কাদের গুলিতে সাংবাদিক বুরহান বিদ্ধ হয়েছেন, সেটি চিহ্নিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার মিথ্যাচারের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। বাদলের মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজার-সংলগ্ন তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট মধ্যম বাজারে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীরা হামলা চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ দুই পক্ষকে দুই দিকে ধাওয়া করে এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর শতাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে চাপরাশিরহাট এলাকায় যান। একপর্যায়ে কাদের মির্জার সমর্থকেরা বাজার-সংলগ্ন মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও গুলি চালান। এ সময় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাংবাদিক বুরহান গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তাঁর মুখের নিচের অংশ এবং গলা ঝাঁজরা হয়ে যায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন আরও ছয়জন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বুরহানসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে। এরপর রাতেই বুরহানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

বুরহান হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

বুরহান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বেলা সাড়ে ১১টার সময় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব, বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে।

default-image

সাংবাদিক এ আর আজাদ ও মোহাম্মদ সোহেলের সঞ্চালনায় মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বখতিয়ার শিকদার, মনিরুজ্জামান চৌধুরী, আবুল হাসেম, মীর মশাররফ হোসেন, ওয়াহিদ উদ্দিন, লিয়াকত আলী খান, জামাল হোসেন, আবু নাছের মঞ্জু, এম বি আলম প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বুরহান হত্যাকাণ্ডের চার দিন পরও কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার কিংবা শনাক্ত করতে না পারায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা দল–মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিক বুরহানের খুনিদের শনাক্ত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এদিকে নিরাপদ নোয়াখালী চাই নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আজ দুপুর ১২টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিক বুরহান হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন