default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় জেলহাজতে থাকা ১২ আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে ১২ আসামির তিন দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আজ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত ১২ আসামির প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এ নিয়ে সাংবাদিক বুরহান হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে ১৩ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেন আদালত। আজ রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১২ আসামি হলেন ইউছুফ নবী ওরফে বাহাদুর, মো. আলমগীর হোসেন, মো. রাহাত, আবদুল আমিন, আজিজুল হক ওরফে মানিক, মোশারফ হোসেন, সুজায়েত উল্যাহ, বিক্রম চন্দ্র ভৌমিক, ফয়সল আলম ওরফে টিটু, দেলোয়ার হোসেন, মো. মাসুদুর রহমান ও মো. সেলিম।  

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সূত্র জানায়, আজ রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১২ আসামি অন্য মামলা গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিলেন। পরে তাঁদের সাংবাদিক বুরহান হত্যা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই মামলায় ৭ মার্চ বসুরহাট থেকে যুবলীগের কর্মী বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেলালের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
আজ রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১২ আসামির সবাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী। মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ৯ মার্চ বসুরহাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াতের ওপর হামলার প্রতিবাদ সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সময়মতো গাড়ি না পাওয়ার কারণে ফিরতে দেরি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের বসুরহাট-পেশকারহাট সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার অব্যাহত ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মিজানুর রহমান। মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজারসংলগ্ন তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট মধ্যম বাজারে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীরা মিছিলে হামলা চালান। এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলাকালে কর্তব্যরত দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। পরের দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বুরহান।

এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক বুরহানের বাবা নুরুল হুদা বাদী হয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরের দিন পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন