default-image

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ওই হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির বিষয়টি খায়রুল আনম চৌধুরী তাৎক্ষণিক সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেছেন। তবে আজ শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি।

এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনটি তিনি রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘তুমি শেষ, তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তুমি এসপি-ডিসির দালালি কর। ওবায়দুল কাদের (সেতুমন্ত্রী), একরাম চৌধুরী (সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী) কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারবে না। তাঁদেরও শেষ করে দেওয়া হবে।’ এসব কথা বলার পাশাপাশি অশ্লীল ভাষায় গালমন্দও করা হয়। কে কথা বলছেন, জানতে চাইলে আবারও একই কথা বলে ফোন কেটে দেওয়া হয়।

ফোনটি তিনি রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘তুমি শেষ, তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তুমি এসপি-ডিসির দালালি কর। ওবায়দুল কাদের, একরাম চৌধুরী কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।’

খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, ফোনে হুমকি পাওয়ার পরপরই তিনি বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার ও সুধারাম থানার ওসিকে অবহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই হুমকি সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা কাউকে দিয়ে দিয়েছেন অথবা তাঁর আরেক ছোট ভাই শাহদাত দিয়েছেন। কণ্ঠটি তাঁর কাছে সে রকম মনে হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আজ সন্ধ্যার মধ্যে থানায় জিডি করবেন বলেও জানান।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য আজ বেলা ৩টা ১০ মিনিটে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে ফোন দিলে স্বপন মাহমুদ নামের একজন ফোন ধরেন। তিনি জানান, ‘মেয়র মহোদয় ঘুমাচ্ছেন।’ এ ছাড়া কাদের মির্জার ছোট ভাই শাহদাত হোসেনের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।

আজ শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত জিডির আবেদন নিয়ে থানায় কাউকে পাঠানো হয়নি।

আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে সুধারাম থানার ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ফোনে হত্যার হুমকি পাওয়ার পরই আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল আনম চৌধুরী তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি তাঁকে এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করতে বলেছেন। কিন্তু বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত জিডির আবেদন নিয়ে কাউকে পাঠানো হয়নি।

এদিকে সুধারাম থানা-পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরীকে যে মুঠোফোন নম্বরটি থেকে ফোন করা হয়েছে, সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে নম্বরটি যখন চালু ছিল, তখন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ব্যবহার হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন