বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা একাধিকবার টেকনাফে গেছেন। তাঁরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে সমাবেশে বক্তব্য দেন। প্রার্থীদের জয়লাভ নিশ্চিত করতে কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদির নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তাঁরা। সমাবেশে বদিসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু বাস্তবে নৌকার পক্ষে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ ছিলেন না।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ১১ জনকে এবং বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করায় ৪ নেতাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন নৌকার ভরাডুবি কেন হয়েছে, তার অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ সদরে জিতলেন বিএনপির সমর্থক

টেকনাফ সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আবু সৈয়দ। এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীককে জিতিয়ে আনার দায়দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদিকে। সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সৈয়দ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮৬৭ ভোট। ৯ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান। তিনি বিএনপির সমর্থক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবা কারবারির তালিকায় নাম ছিল জিয়াউর রহমানের। তিনি ২০১৯ সালে টেকনাফের এক অনুষ্ঠানে ১০২ জন ইয়াবা কারবারির সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন জিয়াউর। নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শাহজাহান মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৫২ ভোট।

বিপুল ভোটে পরাজয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু ছৈয়দ হতাশার সুরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারাই ডুবিয়েছেন নৌকা। আমি একাকী নৌকা জেতাব কী করে? ভোটকেন্দ্রে যুবলীগ-ছাত্রলীগের যাঁরা এজেন্ট হয়েছিলেন, তাঁরাও নৌকার পক্ষে কাজ করেননি। কেন করেননি দলের নেতারা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে।’

আবু ছৈয়দের অভিযোগ, এই ইউনিয়নের নির্বাচনের দায়িত্ব নিলেও সাবেক সাংসদ বদি ভোটের তিন থেকে চার দিন আগে উধাও হন। নৌকা প্রতীকের কোনো সভায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি নির্বাচনের দিন সকাল থেকে ১০-১৫ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। দু-তিনজন নেতা ছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কাউকে পাশে পাননি তিনি (ছৈয়দ)। আসলে নৌকায় ভোট দেওয়ার মানুষ থাকলেও নেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না।

‘বিদ্রোহী’র কাছে হারল নৌকা

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হন সোনা আলী। তাঁকে বিরোধিতা করে মাঠে নামেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর হোসেন। ১৪ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সোনা আলী পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৭১ ভোট।

দলীয় প্রার্থী সোনা আলী বলেন, ‘দলের নেতা-কর্মীরা আমাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। অনেকে কালো টাকায় বিক্রি হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা অন্য প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া ছিলেন।’

হোয়াইক্যং ইউনিয়নে জামায়াত নেতা এগিয়ে

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভোটারের পরিসংখ্যান বলছে, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে চলেছেন জামায়াতের কক্সবাজার জেলা শাখার সহকারী আমির নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি হোয়াইক্যং ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান। ভোট হওয়া কেন্দ্রগুলোতে নুর আহমদ ৯ হাজার ৮২১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৩৮ ভোট। স্থগিত দুটি কেন্দ্রে ভোটার আছেন ৪ হাজার ৪২৫। সুষ্ঠু ভোট হলে বেশির ভাগ ভোটই জামায়াত নেতার পক্ষে যাবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজিজুল হক বলেন, দলীয়ভাবে তাঁকে নৌকার প্রার্থী করা হলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষে কাজ করেননি। কেন করেননি, তা জেলা কিংবা কেন্দ্র থেকে খোঁজ নিলে জানা যাবে। বিশেষ করে দলের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি নৌকার পক্ষে কিছুই করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, দলটির অনেক নেতা জামায়াতের নুর আহমদের পক্ষে কাজ করেছেন। দলের সাবেক সাংসদ বদিও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নৌকা এড়িয়ে গেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাবেক সাংসদ বদির মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি।

তবে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নৌকার পক্ষে মাঠে ও জনসভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন দলীয় প্রার্থীদের পাশে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ ছিলেন না। অনেকে নৌকা ডুবিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন