বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে দেখা যায়, নৌকার ওই প্রার্থী পথসভায় হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পাঁয়তারা করছে, আমরা এই প্রহলাদপুরের ২৭টি গ্রামের মধ্যে কোথাও তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দেব না। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো পোস্টার লাগানো যাবে না। যেখানেই পোস্টার লাগানো হয়, আপনারা প্রতিরোধ না করতে পারলে আমাকে জানাবেন।’

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হক আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আবেগের কারণে হয়ে গেছে। এমনি বলে ফেলেছি। আসলে এমনটি বলার কথা ছিল না। ভুলবশত এটি হয়ে গেছে। আপনারা অন্যভাবে নিয়েন না প্লিজ।’

নৌকার প্রার্থী বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পাঁয়তারা করছে, আমরা এই প্রহলাদপুরের ২৭টি গ্রামের মধ্যে কোথাও তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দেব না।’

নুরুল হক আকন্দের এ ধরনের বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লোহাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল মনসুর বলেন, ‘ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর ভালো জনমত আছে। তাঁর মুখে এ ধরনের বক্তব্য আশা করিনি। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে পারতেন।’ একই গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্যে তিনি দলকে বিতর্কিত করেছেন। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বপালনের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তাঁকে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত বলে মনে করি।’ ওই গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে গণসংযোগ করা প্রার্থীদের অধিকার। এ ধরনের নির্দেশে আমরা নৌকার সমর্থকেরা নিজেরাও বিব্রত।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ আকন্দ বলেন, ‘নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি ও আমার নেতা-কর্মীরা খুবই নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আজ মঙ্গলবার গণসংযোগে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন দিয়ে এসেছি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক আকন্দের লোকজন ইতিমধ্যে আমার নেতা-কর্মীদের মারধর করেছেন। তিনি ভিডিওতে যে হুংকার দিয়েছেন, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি কোণঠাসা করে রেখেছেন আমাকে। আমার নেতা-কর্মীকে কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আল নোমান আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রহলাদপুর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী নুরুল হক আকন্দের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে হবে। জবাব পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আগামী ৫ জানুয়ারি প্রহলাদপুর ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন