default-image

নওগাঁ-৬ (রানীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে গতকাল ৩৪ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। এলাকায় সম্ভাব্য সব প্রার্থীর আনাগোনা ও কর্মসূচি বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। বিগত দুটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের ধারণা, নৌকার প্রার্থী মানেই নিশ্চিত বিজয়। তাই নৌকার মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটাই মূল আগ্রহের বিষয়।

এই আসনের সাংসদ ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হন ইসরাফিল আলম। গত ২৭ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মারা যাওয়ার দিন থেকেই এ আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন, সেই আলোচনা শুরু হয়ে যায়। প্রার্থী হতে চেয়ে এলাকায় পোস্টার-ব্যানার টাঙাতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এখন নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার–ব্যানারে ছেয়ে গেছে রানীনগর–আত্রাই উপজেলা।

বিজ্ঞাপন

রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাংসদ হন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। ২০০৮–এ ইসরাফিল আলমের কাছে হেরে আসনটি হারায় বিএনপি। এরপরে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সাংসদ হন ইসরাফিল আলম। তাঁর জীবদ্দশায় আওয়ামী লীগ থেকে অন্য দু-একজন মনোনয়ন চাইলেও খুব সাড়া পাননি কেন্দ্র থেকে। তাই এবার অন্য নেতারা সাংসদ হতে ওঠে–পড়ে লেগেছেন।

আগামী ১৭ অক্টোবর নওগাঁ-৬ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত সোমবার ওই নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন হাটবাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, এমনকি গ্রামের সড়কেও ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন নেতারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকেরা প্রচারণার ঝড় তুলেছেন।

উপনির্বাচন ঘিরে এলাকার বাইরে অবস্থান করা অনেক নেতা এখন ঘন ঘন এলাকায় আসছেন। এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণেও তাঁদের দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের মতো এলাকার সাধারণ মানুষও দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বিজয় হিসেবে দেখছেন। রানীনগরের একটি বেসরকারি কলেজের প্রভাষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দলের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিয়ে যাঁরাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁরাই বিজয়ী হয়েছেন। চৌদ্দ-আঠারো মার্কা (২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো) নির্বাচন এবারেও হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই নৌকা কে পাচ্ছেন, তা নিয়েই অধিকাংশ মানুষের মতো আমিও আগ্রহী।’

এদিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এর মধ্যেই ৩৪ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলমের স্ত্রী সুলতানা পারভীন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ শাহিন মনোয়ারা হক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি নওশের আলী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি খোদাদদ খান ও সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায়, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাছিম আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক পীযূষ কুমার সরকার, রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবাদুর রহমান, আওয়ামী লীগের নেতা নাহিদ ইসলাম, আক্কাস আলী প্রামাণিক, মেহেদী হাসান, ইউনুস আলী প্রামাণিক, রেজাউল ইসলাম, এস এম আবদুল জলিল, আবদুর রহমান, জাহেদুল হক, মো. ইউনুস আলী, আসাদুজ্জামান নুরুল, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল হাসনাত খান, আসাদুজ্জামান, আলী রেজা মোহাম্মদ, সনৎ কুমার প্রামাণিক, তোফাজ্জল হোসেন খান, আবদুস সাত্তার, মান্নান মোল্লা, জাহিদুল, নূরে আলম সিদ্দিকী ও মান্না মেহেদী, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মমতাজ বেগম ও হামিদা বেগম।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলমের স্ত্রী সুলতানা পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চান।

বিজ্ঞাপন

আর রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন বলেন, এবার এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক সাংসদ হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক কাজে ভূমিকা নেই, জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, এমন অনেকেই রয়েছেন। তিনি আশা করছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা খোঁজখবর নিয়ে এবং তৃণমূল

মন্তব্য পড়ুন 0