বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এক মিনিট ৪২ সেকেন্ডের প্রথম ভিডিওতে আফজাল হোসেন বলেন, ‘এখনো সময় আছে, নৌকার পেছনে কারও মার-পুত নাই যে নৌকা পেছনে কেউ আইয়া বাধা দিবে। সে ক্ষমতা কারও নাই। আবদুস সোবাহান গোলাপ (মাদারীপুর-৩ আসনের সাংসদ) এত নরম না। সে (আবদুস সোবাহান) রোববার থেকে স্টিম রোলার চালাতে বলবে, আপনারা (নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা) চালাবেন। আর আমি থাকব আমার কাছে দুইডা অস্ত্র লইয়া। দুইডা অস্ত্র লইয়া আমি থাকমু, কারও বাপ-পুত থাকলে আমার সামনে জানি আসে। দয়া কইরা নৌকার বিরুদ্ধে কেউ যাইয়েন না। নৌকার বিরুদ্ধে গেলে কারও বাঁচন নাই।’

২ মিনিট ৮ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে আফজাল বলেন, ‘আমরা কিন্তু এত নরম না। এখনো সময় আছে। কালকের (রোববার) পর থেকে স্টিম রোলার চলবে। জালালপুরের ঘটনার পর একটা লোকও ২ নম্বর বা ৩ নম্বর ওয়ার্ডে লিয়াজোঁ মেইন্টেন (যোগসাজশ) করলে তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হবে। যদি কোনো মার পুত থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে যেন যুদ্ধ করতে আসে। এই নৌকার বিপক্ষে গিয়া যাই ইচ্ছে তাই করতে পারবেন না।’

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুর রহমান মোল্লা প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘ওই পথসভায় আমি নিজে মজিবুর রহমান মোল্লা উপস্থিত ছিলাম। সেখানে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল খান, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন মোল্লা, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ তালুকদারসহ আরও অনেকেই ছিল। পথসভায় আমার ভাতিজা কোনো হুমকি দিয়ে কথা বলে নাই। আফজাল বলেছে, “আমি প্রার্থী ছিলাম। আমার চাচারে সমর্থন দিলাম। আপনারা সবাই আমার চাচারে নৌকায় ভোট দিবেন।” আমার ভাতিজাও নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিল। আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় সে এখন নৌকার পক্ষে কথা বলেছে। তবে সে কোনো খারাপ কথা বা হুমকি দিয়ে কিছু বলে নাই।’

ভাইরাল হওয়া ভিডিও সম্পর্কে আফজাল হোসেন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। ওই সব কথা অন্য অর্থে বলা হয়েছে। আমার লাইসেন্স করা দুইটা অস্ত্র ছিল। এখন একটা আছে। আমি বলেছি, যে নৌকা করে নৌকার লোককে যদি অপমান করা হয়; আবার ওরা (প্রতিপক্ষ) আমার অস্ত্রকে বলেছে, পাটখড়ি; ওরা একটা আর্মসকে পাটখড়ি কইছে। তো ঠিক আছে, পাটখড়ি যেহেতু, ওইটা আমার সঙ্গেই থাকবে। যদি কেউ টেঁটা দিয়ে কোপাইতে আসে তাহলে যে আমারে কোপায় তারপর যেন নৌকার দলবলকে কোপায়। এভাবেই ওই পথসভায় কথা হয়েছে।’

ভোটারদের হুমকি দিয়ে প্রচারণা কতটুকু যৌক্তিক, এমন প্রশ্ন করা হলে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা নৌকা পাইছি, একটু হুমকি-ধমকি কি দিতে হবে না? একখানে গেলে পাল্টাপাল্টি কথা হয়। আমার ঘরের পাশেই মিটিং হয়েছে। ঘরের পাশেই আমার আপন চাচাতো ভাই আছে। ওই সূত্র ধরেই এসব কথা বলা। তবে ভোটারদের হুমকিস্বরূপ কিছু না। আমার চাচার নির্বাচন করতাছি। তিনি মিনমিন করে কথা বলে। নৌকার জোয়ার নামাইতে পারে নাই। মিনমিন করলে নৌকার অবস্থা কী হবে? আমি নৌকার পক্ষে কথা বলেছি। হুমকি দেওয়া হয়েছে যারা নৌকাকে নিয়ে কটূক্তি করে কথা বলে, সেখানে কি দুই–চারটা কথা আসবে না। সেই সূত্রে কিছু কথা বলেছি। তবে এসব কথাও ঘরোয়া।’

জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিওটা আমি দেখেছি। পথসভায় এভাবে হুমকি ও উসকানিমূলক কথা বলা আচরণবিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। এসব দেখার জন্য তিনজন ব্যক্তি কাজ করেন। তারা হলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, রিটার্নিং অফিসার ও ওসি। তাঁরা সমন্বিতভাবে আচরণবিধির বিষয়গুলো দেখবেন। তাঁরাই পদক্ষেপ নিবেন।’

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১১ নভেম্বর কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউপিতে ভোট হবে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওই ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জেল হোসেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান মোল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমি হক সুলতানা ও লিয়াকত হোসেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন