২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ পদ্মা সেতু দেখতে আসছেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর প্রথম ঈদের ছুটিতে মানুষ সেতু দেখতে আসছেন। অনেকে গাড়িতে সেতু পাড়ি দিচ্ছেন। আবার অনেকে চলে যাচ্ছেন পদ্মা নদীর তীরে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের বাঁধের ওপর। সেখান থেকে ট্রলার ভাড়া নিয়ে নদীপথে ঘুরে সেতু দেখছেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে দুটি বাসে করে এসেছেন ৮০ জনের একটি দল। তাঁরা গতকাল সোমবার সেতু পার হয়ে জাজিরা প্রান্ত ঘুরে দেখেন। বিকেলে চলে যান নাওডোবায় পদ্মার তীরে। সেখান থেকে একটি ট্রলার ভাড়া নিয়ে নদীতে ভ্রমণ শুরু করেন। সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে নদী পথে সেতু ঘেঁষে মাওয়া প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে আবার জাজিরা প্রান্তে ফিরে আসেন।

ওই দলের সদস্য নাজমা খানম বলেন, ‘আমি কখনো পদ্মা নদী পার হইনি। নদী থেকে পদ্মা সেতু দেখেছি, সেতু ছুঁয়েছি। অনেক আনন্দ লেগেছে।’

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের তারাবনিয়ার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুটি ট্রলার নিয়ে এসেছে পদ্মা সেতু দেখতে। তারা নদী পাড়ি দিয়ে চরে পিকনিকের আয়োজন করে। ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মোবারক হোসেন বলে, ‘পদ্মা সেতুতে মানুষ নামতে পারে না। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে এসেছি নদীপথে আমাদের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখতে। স্কুলের বন্ধুরা মিলে পিকনিকেরও আয়োজন করেছি সেতুর কাছে পদ্মার চরে।’

নাওডোবার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন পদ্মা নদীতে ট্রলার চালান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগে মানুষ নৌপথে পারাপার হওয়ার সময় ফেরি ও লঞ্চ থেকে সেতু দেখত। এখন পদ্মা সেতু চালু হয়েছে। যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ। তাই অনেকেই আসছেন ট্রলার ভাড়া নিয়ে, নদী পথে পদ্মা সেতু দেখছেন। পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

জাজিরার সাত্তার মাদবর ও মঙ্গল মাঝির ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটির কারণে অনেক দর্শনার্থী ট্রলারে করে নদীপথে পদ্মা সেতু দেখছেন। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নৌ–পুলিশের টহল দল কাজ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন