default-image

স্বপ্ন তো অনেক রকম হয়। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের রামগতির মো. ইউছুফের স্বপ্ন ছিল একটু ভিন্ন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে ‘জলডাঙা মুজিব পরিবহন’ নামে একটি নৌকা বানিয়েছেন। এটি জলপথ ও স্থলপথে চলবে।

নৌকাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতেই ইউছুফের সেটি নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল আজ বুধবার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে এ নৌকায় চড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সবকিছু চূড়ান্তের পর হঠাৎ স্থানীয় প্রশাসন তাঁকে অনুমতি দেয়নি। ফলে তিনি নৌকা নিয়ে আর যেতে পারেননি ঢাকায়।

ইউছুফ লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের পূর্ব চরকলাকোপা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার নৌকাটির উদ্বোধন করার কথা ছিল স্থানীয় প্রশাসনের। ১৭ মার্চ (আজ) প্রধানমন্ত্রীকে উপহারটি বুঝিয়ে দিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল ইউছুফের। তাঁর ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রী নৌকায় চড়বেন; অন্তত একবারের জন্য হলেও ছুঁয়ে দেখবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও পুলিশ প্রশাসন থেকে তাঁকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিতে নিষেধ করা হয়। এতে ভেস্তে যায় ইউছুফের সব পরিকল্পনা।

চার চাকার নৌকাটির দিকে তাকালে দেখা যায়, জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙে নৌকাটি সাজানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও আঁকা রয়েছে নৌকায়। নৌকায় ওঠার জন্য উড়োজাহাজের আদলে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে গিয়ার, ফলোক্যামেরা, হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, এসি ফ্যান, হর্ন ও মিটার বোর্ড রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের ছাউনি রয়েছে। ব্যতিক্রম এই নৌকা দেখতে গত ১০ দিনে ছুটে যান অনেকেই। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তিন বছর পরিশ্রম করে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নৌকাটি তৈরি করেছেন ইউছুফ।

ইউছুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে একটি উপহার দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি নৌকা তৈরির পরামর্শ দেন। বাবা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে অনুপ্রেরণা দেন। নৌকা তৈরির কাজে ইউছুফের স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। দল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি উপহার দেওয়ার জন্য নৌকাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউছুফ। ২০১৯ সাল থেকে দিনরাত পরিশ্রম করে নৌকাটি নির্মাণ করেছেন। সারা জীবন মানুষের নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। নিজের নৌকা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য নৌকা তৈরি করেছেন ইউছুফ।

ইউছুফের নৌকা তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে রামগতির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মোমিন বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। হঠাৎ করে ইউছুফ উপহারটি নিয়ে ঢাকায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তা গ্রহণ না–ও করতে পারেন। তবে বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা চিঠি পাঠাব। উপহারটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাতে ইউছুফকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন