বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চারটি সেতুর মধ্যে তিনটির অবস্থান সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়। আর একটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় তিনটি বালুমহাল এ বছর ইজারা দেওয়া হয়। তাই এ রুটে নৌচলাচল বাড়ায় এবার বর্ষাকালের শুরুতে সেতুর সুরক্ষায় নৌপথে বালু পরিবহনে নজরদারি রাখতে সওজের প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়। এর মধ্যে সেতুর পিলারের সঙ্গে বালুবাহী নৌযানের ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটায় দুই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সওজের প্রকৌশল বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার সরেজমিন গোয়াইনঘাটে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে প্রবহমান গোয়াইন নদের সেতুর পাঁচটি পিলারের মধ্যে একটিতে কেবল প্রটেক্টিভ পিলার রয়েছে। বাকি চারটিতে নেই। সেতুর আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা বলেছেন, পাহাড়ি ঢল নামার সময় থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সেতুর পিলারে প্রতিদিন বালুবাহী নৌযানের ধাক্কা লেগেছে। কোনো কোনো সময় নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ পিলারের অংশে লাল নিশানা লাগিয়ে রেখেছেন।

একই উপজেলায় পিয়াইন নদের ওপর জাফলং সেতুর আটটি পিলারে কোনো প্রটেক্টিভ পিলার নেই। গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মিলনস্থল সালুটিকর সেতুটিও একই অবস্থায় রয়েছে। বর্ষার শুরুতে এ সেতুর নিচে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

গোয়াইনঘাটের তিনটি সেতুর মধ্যে গোয়াইন সেতু নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান। ইউএনও বলেন, গোয়াইন সেতুটি উপজেলা সদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু। নদে রয়েছে পাঁচটি পিলার। এর মধ্যে মধ্যবর্তী অংশে একটি পিলারের একাংশে একটি প্রটেক্টিভ পিলার আছে। বাকি চারটি অরক্ষিত। এ অবস্থায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদের সেতুটির সব কটি পিলারই অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তবে এ বছর ধলাই নদ দক্ষিণ বালুমহাল ইজারা দেওয়ায় সেতুর উত্তর দিক থেকে নৌচলাচল অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হয়েছে। ফলে পিলারে ধাক্কা লাগার ঘটনা গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ ইউএনও সুমন আচার্য।

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নৌপথে স্থায়ীভাবে নৌচলাচল বন্ধ করার পরামর্শ কিন্তু দেওয়া হয়নি। সেতুর পিলারে যে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটি একটি ‘ফলস পিলার’ স্থাপন। কাজটি অনেকটা সেতুর পিলার স্থাপনের মতো। চারটি সেতু এলাকায় এখন পানি। এ সময় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এককথায় অসম্ভব। এ জন্য তাঁরা বলেছেন, ভারী নৌচলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে। তা না করতে পারলে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি করা যেতে পারে। বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন