বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার রাতে মোংলা সমুদ্রবন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়ার ৯ নম্বর অ্যাঙ্করের কাছে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে একটি বিদেশি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ফারদিন-১ নামের বাল্কহেডটি ডুবে যায়। ওই রাতেই বাল্কহেডের সাত কর্মীর মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার হলেও পাঁচজন নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবুরিদের সাহায্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে তিনজন এখনো নিখোঁজ।

আজ বৃহস্পতিবার থেকে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে কয়লা অপসারণ শুরুর কথা থাকলেও বিকেল পর্যন্ত নৌযানমালিক কর্তৃপক্ষ নিয়োজিত উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কাজ শুরু করতে পারেননি।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি এলাকার মহিউদ্দীন (৬০), তাঁর ছেলে মো. রবিউল ও একই জেলার ভান্ডারিয়ার জিহাদ ওরফে জিসান। এমভি ফারদিন-১ ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করা মানিক মৃধা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজ তিনজনের লাশ জোয়ারে ভেসে যেতে পারে এই ধারণায় আজ দুপুরে সুন্দরবনসংলগ্ন পশুর নদের পারের মোংলার চিলা ও জয়মনির ঘোল এলাকায় মাইকিং করেছেন পরিবারের লোকজন।

এমভি ফারদিন-১-এর মালিক মো. ফজলুল হক খোকন প্রথম আলোকে বলেন, নৌযান উদ্ধারে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ডুবুরিরা গতকাল বুধবার হাড়বাড়িয়া এলাকায় পানিতে নেমে দেখেছেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে ঠিক কখন থেকে কয়লা অপসারণ বা জাহাজটির উদ্ধারকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে ফজলুল হক কিছু জানাতে পারেননি। এর আগে গতকাল তিনি জানান, ডুবে থাকা জাহাজ থেকে প্রথমে কয়লা তুলে ওজন কমিয়ে পরে বাল্কহেডটিকে দুটি খালি বার্জের সাহায্যে টেনে তোলা হবে।

এদিকে কয়লা নিয়ে নৌযানডুবির ফলে সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদেরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মোংলার আহ্বায়ক নুর আলম শেখ বলেন, ‘কয়লা একটি বিষাক্ত পদার্থ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লা পরিবহন বন্ধ করতে হবে। কয়লাদূষণের ফলে পশুর নদে জলজ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। বন্দরের এই নৌপথ সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে। পশুর একই সঙ্গে সুন্দরবনের অন্যতম নদ। বিভিন্ন সময় এখানে কয়লা, সারসহ নানা পণ্য নিয়ে নৌযানডুবি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন