গত শুক্রবার নড়িয়ায় চণ্ডীপুর এলাকায় নির্মাণাধীন পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৪৭ মিটার অংশ ধসে পড়ে। ছবিটি ২১ সেপ্টেম্বর তোলা
গত শুক্রবার নড়িয়ায় চণ্ডীপুর এলাকায় নির্মাণাধীন পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৪৭ মিটার অংশ ধসে পড়ে। ছবিটি ২১ সেপ্টেম্বর তোলাপ্রথম আলো

পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকায় নির্মাণাধীন পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৪৭ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। এতে তিনটি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে রয়েছে দুটি গ্রামের এক হাজার পরিবার।

গত আগস্ট মাসে নড়িয়ার ঘড়িসার ইউনিয়নের সুরেশ্বর দরবার শরিফ রক্ষা বাঁধের ১৬৬ মিটার নদীতে ধসে যায়।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, নড়িয়া- জাজিরা ভাঙন রোধ করার জন্য দুই উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে। ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে গত বছর। এখন চলছে সিসি ব্লক ডাম্পিং, চর খননসহ অন্যান্য কাজ।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক দিন পদ্মায় পানি বাড়ছে। এতে নদীতে প্রচণ্ড স্রোত তৈরি হয়েছে। এই স্রোতে গত শুক্রবার নড়িয়ার চণ্ডীপুর এলাকায় ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৪৭ মিটার অংশ ধসে যায়। এতে বাঁধের ওই স্থানের বালুভর্তি ২০ হাজার জিও ব্যাগ এবং ১৯ হাজার সিসি ব্লক নদীতে বিলীন হয়। সেখানে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা চুন্নু মাদবর, কুদ্দুস মাদবর ও আলেক মাদবরের বসতবাড়ির কিছু অংশ বিলীন হয়ে যায়। পরে তিনটি বাড়ির লোকজন তাদের নয়টি ঘর সরিয়ে নেয়। আজ মঙ্গলবার নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চুন্নু মাদবর নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। বসতবাড়িটি ২০ শতাংশ জমিতে। গত শুক্রবার তাঁর একটি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর তিনি বাড়ির অন্য ঘরগুলো সরিয়ে নেন।

চুন্নু মাদবর বলেন, ‘নদীভাঙন রোধের বাঁধটি হওয়ায় নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণাধীন বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। বাড়ির একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামের এক আত্মীয়ের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি। বাপ-দাদার ভিটে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেল। আল্লাহই জানেন, এ জীবনে আর নিজের ভিটায় ফিরতে পারব কি না।’

default-image

ওই গ্রামের বাসিন্দা আলেক মাদবর বলেন, ‘ভাঙনে বাড়ির অধিকাংশ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অংশটুকুও বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাণাধীন বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আমাদের গ্রামের এক হাজার পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে।’

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৮ সালে সর্বশেষ এখানে পদ্মায় ভাঙন হয়। বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার পর আর ভাঙন হয়নি। এবার হঠাৎ করে নদীতে পানি বাড়ায় এলাকায় আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন পাঁচগাঁও ও চণ্ডীপুরের ১ হাজার পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদ্মায় এই মুহূর্তে অনেক স্রোত। আর তীরের কাছে অনেক গভীর। স্রোতের কারণে নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে গিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের কিছু অংশে ভাঙন হয়েছে। ওই স্থানে ভাঙন রোধে নতুন করে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এখন ওই স্থানটি নিরাপদ হয়েছে। আশা করছি, আর কোনো সমস্যা হবে না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন