খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামের বাসিন্দা রুকু সরদার নামের এক ব্যক্তি গতকাল রাতে সান্তাহার স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে তাঁর ভাগনিকে তুলে দিতে যান। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর পরপরই এক ব্যক্তি রুকু সরদারের ভাগনির অলংকার তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি রুকু সরদারের পায়জামার পকেটে হাত দেন। এ সময় রুকু সরদার ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন।

রুকু সরদার বলেন, ‘ওই ব্যক্তি পকেটমার ছিল। আমার ভাগনির ব্যাগ ও পকেটে হাত দেওয়ার সময় আমি ওই পকেটমারকে ধরে পুলিশ কনস্টেবল মোসলেম উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করি। ওই সময় মোসলেম উদ্দীনকে বলি, “ভাগনিকে ট্রেনে তুলে দিয়ে আবার আসতেছি।” ভাগনিকে ট্রেনে তুলে দিয়ে আসার পর দেখি মোসলেম উদ্দীন ওই পকেটমারকে ছেড়ে দিয়েছেন।’

default-image

রুকু সরদার পরে বিষয়টি জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোসলেম উদ্দীন বলেন, ‘আমি তখন অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতে পারিনি ওই লোক পকেটমার ছিল। তাই ওই পকেটমারকে ছেড়ে দিয়েছি। আমি এ ঘটনায় অনুতপ্ত এবং রুকু সরদারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।’

মুঠোফোনে সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার পরিদর্শক সাকিউল আজম বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ সুপারকে (এসআরপি) জানানো হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সান্তাহার রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে পকেটমারের বিষয়ে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন। মাঝেমধ্যেই প্ল্যাটফর্মে অথবা ট্রেনের ভেতর যাত্রীদের স্বর্ণালংকার, টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান মালামাল খোয়া যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়।

সান্তাহার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া বলেন, সান্তাহার স্টেশনে যাত্রীরা পকেটমার চক্রের কাছে জিম্মি। তাঁর নিজের মেয়ের মুঠোফোনও এই স্টেশন থেকে খোয়া গেছে। পকেটমারকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রেল পুলিশের সঙ্গে পকেটমার চক্রের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন