বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আদাখেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। চাষিরা কীটনাশক প্রয়োগ ও পচন ধরা গাছ তুলে ফেলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আদাখেতের ফাঁকে ফাঁকে সাথি ফসল হিসেবে লাগানো বেগুনগাছে বেগুন ঝুলছে। কিন্তু তবুও চাষির মনে হাসি নেই। পচন রোগ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

খেত থেকে পচা আদাগাছ তুলে ফেলছেন বুড়িরহাট গ্রামের আফসার আলী। তিনি বলেন, ‘অন্য আদাগাছ বাঁচার জন্য পচা আদার খেতগুলো তুলি ফেলাওছুন। এবার গাছগুলা দেখি মনে হছলো গত বছরের চেয়ে ফলন আরও ভাল হইবে। কিন্তু হঠাৎ কেনেবা গাছগুলা হলুদ হয়া গেইছে। গাছের গোড়া খুলি দেখি বীজ আদাগুলা পচি গেইছে। ঔষধ দিয়াও কাম হওছে না।’

মাঝাপাড়ার মাঠে লাগানো আদাখেতের কীটনাশক স্প্রে করেন অনন্তপুর গ্রামের সতীনাল রায়। তিনি বলেন, ‘মেলা দিন থাকি আদা চাষ করুছুং। গতবার ২৫ শতক জমিত আদা চাষ করি ৭৫ হাজার টাকা লাভ করছুং। কিন্তু এবার আদা নিয়া খুব টেনশনে আছুন। ঔষুধ দিয়াও পচন রোগ থামার পাওছুন না। ৩০ শতক আদাখেতের ২০ শতকই পচন রোগে নষ্ট হইছে। এবার আসলসহ লোকসান হইবে।’

তারাগঞ্জ-বুড়িরহাট সড়কের পাশে অনন্তপুর মাঠে ৪৪ শতক জমিতে আদা লাগিয়েছেন মাঝাপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা। খেতে পচে যাওয়া আদার গাছ তুলতে দিনমজুরকে নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তিনি এই প্রতিবেদককে আক্ষেপ করে বলেন, ‘সবায় কয় কৃষক নাকি দ্যাশের প্রাণ। সেই প্রাণের আদাখেত পচি যাওছে। তাও কারও খবর নেওছে না। নাগানাগি বৃষ্টির পর খেতোত পচন রোগ দেখা দিছে। দু-তিনবার করি ঔষধ দিয়াও আদার গাছগুলা বাঁচা যায়ছে না।’

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিনা ইয়াছমিন বলেন, তারাগঞ্জের প্রধান অর্থকারী ফসল হলো আদা। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, পচন রোগের কারণে এ ফসলের চাষ ততই কমছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, প্রথম থেকে আদার বীজ শোধন, খেতের মাটি শোধন করতে হবে। ভালো খেত থেকে রোগমুক্ত বীজ সংগ্রহ করতে হবে। আদা রোপণের পর খেতে অবশ্যই ধঞ্চের গাছ লাগাতে হবে। কারণ, আদা হালকা ছায়া পছন্দ করে। এরপরও যদি খেতে পচন রোগ দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত গাছ তুলে খেত থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এরপর সেখানে সরকার অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন