বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ, রোকেয়ার পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের জোতহাসনা এলাকার হাসির উদ্দিনের ছেলে এরশাদ আলীর সঙ্গে তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে রোকেয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই এরশাদ-রোকেয়া দম্পতি ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ে ওই দম্পতি ঢাকায় কাজ হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরশাদ তাঁর বাবার বাড়ির পাশে একটি টিনের চালাঘর তুলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন এবং ঘরসংলগ্ন একটি জায়গায় ব্রয়লার মুরগির খামার করেন। তবে মুরগির খামারে লোকসান নিয়ে নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল ওই দম্পতির।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর ভোরে রোকেয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবারের লোকজনকে জানান এরশাদ। এর কিছুক্ষণ পর তাঁদের ঘরের পাশের ডোবার পানিতে রোকেয়াকে মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশে জানালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এরশাদ আলীর বড় ভাই খায়রুল আলম বলেন, ‘আমি পঞ্চগড় শহরে থাকি। আমার ছোট ভাই তার স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর আমরা বাড়ির গাছপালা বিক্রি করে তাদের ব্যবসা করার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। পরে তারা মুরগির খামার করেছিল। কিছুদিন আগে শুনেছি, খামারে লোকসান হচ্ছে। তবে ওদের সাত বছরের সংসারে কখনোই তেমন ঝগড়ার কথা শুনিনি। রাতে নাকি ওরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

সকালে ঘুম থেকে জেগে আমার ছোট ভাই তার স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে সবাইকে জানায়। পরে বাড়ির পাশের ডোবায় রোকেয়াকে ভাসতে দেখে তারা। কী কারণে, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

রোকেয়ার বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক নম্র ও ভদ্র। তার অনেক সহ্যক্ষমতা। সে কখনোই ছোটখাটো ঝগড়ার কথা আমাদের জানায়নি। সকালে মেয়ের জামাইবাড়ি থেকে ফোন করে আমাদের জানান, রোকেয়া অসুস্থ। পরে এসে দেখি আমার মেয়ের লাশ পুকুরে ভেসে আছে। আমার বিশ্বাস, তাকে কোনোভাবে মেরে ফেলে ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তা না হলে ওই নোংরা পানিতে ওর যাওয়ার কথা নয়। আমরা এ ঘটনায় আমাদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আইনের আশ্রয় নিব।’

পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ কবীর বলেন, ‘আমরা বাড়িসংলগ্ন ডোবা থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। লাশের প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে রোকেয়ার স্বামী এরশাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা দায়ের করেনি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন