default-image

পঞ্চগড়সহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিমেল বাতাসে ভোগান্তিতে পড়েছে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ। কনকনে ঠান্ডায় কাজ করতে বের হতে না পারায় বেশে সমস্যা হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষদের। কুড়িগ্রামেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও আজ বৃহস্পতিবার তা নেমে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে চলে আসে। আজ কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্নœতাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েক দিন পঞ্চগড়ে রাতভর ঝরছে কুয়াশা, থাকছে সকাল পর্যন্ত। দিনভর কুয়শাচ্ছন্ন আকাশে থাকছে শীতের আমেজ। দুপুরে স্বল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও উত্তরের হিমেল বাতাসে রোদের তীব্রতা ছড়াতে পারছে না। রাতভর উত্তরের হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়ছে এই জনপদের মানুষ। সকালে কুয়াশার কারণে মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়া মানুষ গরম কাপড়ের পাশাপাশি খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার স্কুলশিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, কয়েক দিন আগে কুয়াশার পরিমাণ বেশি থাকলেও এত ঠান্ডা লাগেনি। দুই দিন ধরে ঠান্ডা বাতাস বইছে। এতে বিকেল হতে না হতেই তীব্র শীত পড়ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড় জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিমবায়ুর পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা ঝরছে। আকাশের উপরিভাগে কুয়াশা থাকায় দিনের বেলা রোদের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে না। আগামী তিন থেকে চার দিন এই এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমে একই রকম আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
ঠান্ডা বেশি পড়ায় জেলার হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিনই এ হাসপাতালে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

কুড়িগ্রামে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া শীত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের অভাবে চরম কষ্টে আছে দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে কৃষিশ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না অনেকে। এতে কমে গেছে তাঁদের আয়রোজগারও। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর ও চর যাত্রাপুরের ছাদেক আলী ও ছলিমা বেগম বলেন, ‘খুবই শীত বাহে। দিনে–রাইতে কুয়াশা। সেই সঙ্গে বাতাস গাওত আসি হানে। আমরা দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন কাজ চলে না। টাকাপয়সা নাই, গরম কাপড় কিনতে পারছি না। ছাওয়াপাওয়া নিয়া কষ্টোত পড়ছি।’ এ বিষয়ে যাতাপুর ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য ভোলা মিয়া বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১৮০০ মানুষ। আমি সরকারি কম্বল পেয়েছি মাত্র ২৭টি।’
ঠান্ডা বেশি পড়ায় জেলার হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিনই এ হাসপাতালে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, শীতের শুরুতেই ৩৫ হাজার কম্বল জেলার ৭২টি ইউনিয়নসহ পৌরসভাগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ৯ উপজেলায় শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৬ লাখ করে টাকা এবং ১ হাজার করে শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই টাকায় শীতবস্ত্র কিনে বিতরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ শীতবস্ত্র কেনার জন্য আরও পাঁচ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এখনো এক হাজার কম্বল মজুত আছে। এসব কম্বল খুব তাড়াতাড়ি বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য করুন