default-image

চলমান ‘লকডাউনে’ দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে রেলপথে পণ্য পরিবহনে দ্বিতীয়বারের মতো ‘স্পেশাল পার্সেল এক্সপ্রেস’ নামের একটি ট্রেন চালু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন।

আনুষ্ঠানিক যাত্রায় পণ্যবাহী ট্রেনটি পঞ্চগড় থেকে ২ মেট্রিক টন শসা, ৭৪০ কেজি টমেটো, ১০০ কেজি শুকনা মরিচ ও ১৮৭ কেজি বেগুন নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অতিরিক্ত গরমের কারণে এসব পণ্য ট্রেনটির সঙ্গে লাগানো যাত্রীবাহী বগিতে পাঠানো হয়।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ, পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রথম দফায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর গত বছরের ৯ মে প্রথম দফা পণ্যবাহী ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে গণপরিবহন চালু হওয়ার পর থেকে সেই পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন থেকে ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল এই স্পেশাল পার্সেল এক্সপ্রেসে পঞ্চগড় থেকে সরাসরি ঢাকায় নিয়ে যেতে পারবেন। এই ট্রেনের চারটি বগির মধ্যে তিনটিতে মালামাল বহন করা যাবে। প্রতিটি বগিতে ৪৩ মেট্রিক টন মালামাল বহন করা যাবে। এই ট্রেনে প্রতি কেজি পণ্য ঢাকায় পৌঁছাতে ১ টাকা ৫৬ পয়সা, জয়দেবপুর পৌঁছাতে ১ টাকা ৫৩ পয়সা এবং পার্বতীপুর পৌঁছাতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা খরচ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এই পণ্যবাহী ট্রেনটি সপ্তাহে শনি, সোম ও বুধবার বেলা একটায় পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন ভোররাত তিনটায়।

এদিকে গরমের কারণে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পাঠানো এসব পণ্য যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত লাগেজ বগি সংযোজনের দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা। সদর উপজেলার পানিমাছ পুকুরী এলাকার সবজি ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘মালামাল পাঠানোর জন্য যেসব বগি আছে, সেগুলোতে মালামাল পাঠালে আমাদের এসব পচনশীল মাল নষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য তাঁরা ওই ট্রেনে যে যাত্রীবাহী বগি আছে, সেখানে পণ্যগুলো দিয়েছেন। এই পণ্যবাহী ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি সংযোজন করা না হলে পচনশীল পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে না।’

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই ট্রেনে ৭৪০ কেজি টমেটো ঢাকায় পাঠালাম। আমাকে বলা হয়েছিল এসি বগিতে (শীতাতপনিয়ন্ত্রিত) মালামাল পাঠানো হবে। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম এসি নাই।’

রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, করোনার মধ্যে জীবন ও জীবিকা চালু রাখতে এবং লকডাউনে কৃষক যাতে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করতে পারেন, সে জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ পার্সেল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রেনে পণ্য পরিবহনে কোনো চাঁদাবাজি নেই। নিরাপদে নির্দিষ্ট সময়ে সব মালামাল পৌঁছাবে। তিনি বলেন, রেলে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত লাগেজ ভ্যান সংযোজনের সিদ্ধান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন