ওসি রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, এর আগে এই মামলার প্রধান আসামি হাইদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান বদরুদ্দিন মোহাম্মদ জসিম ওরফে বি এম জসিম এবং তাঁর ছেলে দুই নম্বর আসামি মুসফিক উদ্দীন ওয়াসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে পূর্ব হাইদগাঁও গাউছিয়া কমিউনিটি সেন্টারের হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেলা তিনটার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান বি এম জসিমসহ তাঁর পক্ষের লোকজন এসে জিতেন কান্তি গুহকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন। এ সময় ইফতার অনুষ্ঠানও পণ্ড হয়ে যায়। পরে নির্যাতনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বি এম জসিম হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি গত ২৬ ডিসেম্বরের ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এ কারণে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে জিতেন কান্তি গুহকে নির্যাতনের ঘটনায় ২৯ এপ্রিল রাতে তাঁর ছোট ভাই তাপস কান্তি গুহ বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা করেন। এতে বি এম জসিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ–ছয়জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে ১০ মে সকালে ইন্দ্রজিৎ চৌধুরীর স্ত্রী সুবর্ণা দাশ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ২৯ এপ্রিল একটি অনুষ্ঠানে জিতেন কান্তি গুহকে পেয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে চেয়ারম্যান বি এম জসিমসহ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী ও বি এম জসিমকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বি এম জসিমের বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী–সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিতেন কান্তি গুহকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন