৬ এপ্রিল প্রথম আলোর অনলাইনে ‘হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় নদীর পাঙাশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মৎস্য বিভাগ দেশি পাঙাশের পোনা রক্ষায় নদীতে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এ্যামদাদুল্লাহ বলেন, পটুয়াখালীর আগুনমুখা নদীসহ সাগরের মোহনার সংযোগস্থল এলাকার সাতটি পয়েন্টে দেশি পাঙাশ মাছের প্রজনন, বৃদ্ধি ও দেশি পাঙাশের পোনার অন্যতম বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ওই সব এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৎস্য আইন অনুসারে ১২ ইঞ্চির নিচে (৩০ সেন্টিমিটার) পাঙাশ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও আগুনমুখা নদীর সংযোগস্থল মোহনার পাঙাশের বিচরণক্ষেত্র থেকে অসাধু জেলেরা বাঁশের তৈরি চাঁই ও ঝাই জাল দিয়ে নির্বিচার পাঙাশের পোনা ধরে যাচ্ছেন। দেশি পাঙাশ রক্ষায় এই অভিযানে আট জেলেকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন গলাচিপার বোয়ালিয়া এলাকার সোহাগ খান (৩৫), জাহিদুল প্যাদা (২৯), রিয়াজুল মাতবর (৩২), তোফাজ্জেল খান (৩২), সাগর খান (২৫), মো. শামীম (১৩); বরগুনার তালতলীর আয়ুব খান (৩৮) ও বরিশালের পাতারহাট এলাকার জীবলু খান (৪২)।

আটক আটজনকে আজ দুপুরে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। তিনি ৭ জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অপর জেলে কিশোর হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জব্দকৃত চাঁই ও জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। জব্দ মারা যাওয়া পাঙাশের পোনা এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকোফিশ বাংলাদেশ প্রকল্প-২-এর পটুয়াখালীর সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি প্রথম আলোকে বলেন, নভেম্বর থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৯ মাস ৩০ সেন্টিমিটার/১২ ইঞ্চির ছোট আকারের পাঙাশ নিজেদের দখলে রাখা, বহন, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন উপায়ে নদী থেকে পাঙাশের পোনা ধরছেন। মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রজননস্থলের পাঙাশের পোনা ধরায় স্থাপিত অবৈধ চাঁই উচ্ছেদ ও জাল জব্দ করার অভিযান শুরু করেছে। তাদের এই অভিযানে দেশি পাঙাশের পোনা রক্ষা পাবে এবং পাঙাশের উৎপাদন বাড়বে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন