শিবু দাস ও তাঁর গাড়ির চালককে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন শামিম আহমেদ (৩৯), আক্তারুজ্জামান সুমন (৩২), মো. আতিকুর রহমান পারভেজ (৩২), মো, মিজানুর রহমান ওরফে সাবু গাজী (৪০), মো. বেল্লাল (৪১) ও মো. সাব্বির হোসেন ওরফে জুম্মান (২২)।

এ অপহরণের ঘটনা সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আহমাদ মাঈনুল হাসান পটুয়াখালী জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটার দিকে জেলার গলাচিপা আমখোলার খেয়াঘাট থেকে টোল হিসেবে আদায় করা টাকা নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মিরাজকে (২২) নিয়ে পটুয়াখালী নিজ বাড়িতে রওনা দেন শিবু দাস। এ সময় তিনি ও তাঁর গাড়িচালক অপহরণের শিকার হন। শিবু দাসকে অপহরণের খবর পেয়েই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পিপিএমের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং রাতেই শিবু দাসের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ।

রাত দুইটার সময় শিবু দাসের ব্যবহৃত মুঠোফোন দিয়ে তাঁর স্ত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করেন এক অপহরণকারী। মুঠোফোনে ওই ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় শিবু দাসকে পেতে হলে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং পরদিন বেলা দুইটার মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না পেলে শিবু দাসের লাশ ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান।

আহমাদ মাঈনুল হাসান আরও বলেন, ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়া এলাকার এসপি কমপ্লেক্স নামে একটি শপিং সেন্টারের ভূগর্ভস্থ অংশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিবু দাসকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় শিবু দাসের গাড়িচালক মিরাজকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শিবু দাসকে উদ্ধারের পাশাপাশি সেখান থেকে আলামত জব্দ করেছে।অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে

default-image

শিবু দাসকে অপহরণের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, শিবু দাস অপহরণের পর তাঁকে পটুয়াখালী শহরের কালেক্টর স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়কের অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী মামুন ওরফে ল্যাংড়া মামুনের ভাড়া বাসায় ওঠানো হয়। পরদিন ইফতারের পর সেখান থেকে শিবু দাস ও তাঁর গাড়িচালককে প্লাস্টিকের বস্তা ভর্তি করে অটোরিকশায় এসপি কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন অপহরণকারী। এরপর ওই ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশ মামুনের ভাড়া করা গুদামঘরে তাঁদের রাখা হয়। পুলিশ সেখান থেকে উদ্ধার করে।

শিবু দাসকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে বের করতে গিয়ে পুলিশ প্রথম অপহরণের কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি শনাক্ত করে। অটোরিকশার চালক বিল্লাল প্যাদার দেওয়া তথ্য এবং শিবু দাসের দেওয়া তথ্য মিলে যায়। পরে তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্য–উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করে অপহরণের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে অপহরণকাজে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পিপিএম বলেন, এ অপহরণের ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জন অপহরণকারী জড়িত রয়েছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। অপহরণকারীরা অত্যন্ত দুর্ধর্ষ। শিবু দাসকে উদ্ধারের পরই তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটনের ডিবি টিম ও পটুয়াখালী জেলার একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন জায়গায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করছেন। অপহরণকাজে জড়িত মামুন ওরফে ল্যাংড়া মামুনসহ অন্য অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

শিবু দাসের অপহরণের ঘটনায় ১৩ এপ্রিল সদর থানায় একটি মামলা করেন তাঁর ছেলে বুদ্ধদেব দাস।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন