লঞ্চের চালক, কর্মকর্তা ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে যাত্রী পারাপারের জন্য ট্রলার সার্ভিস চালু করা হয়। এরপর ১৯৮৮ সালে চালু হয় ফেরি। আর ১৯৯৬ সালে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। নদীভাঙন ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের কারণে মুন্সিগঞ্জ প্রান্তে মাওয়া থেকে ঘাট সরিয়ে শিমুলিয়ায় নেওয়া হয়। আর দক্ষিণে শিবচর প্রান্তে কাওরাকান্দি, কাঁঠালবাড়ি ও বাংলাবাজারে সরিয়ে আনা হয়। নৌপথ দুটিতে বর্তমানে ৮৬টি লঞ্চ, ২৫০টি স্পিডবোট ও ৫টি ফেরি চলাচল করছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৯ জেলার মানুষ এই নৌপথ দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন।

শরীয়তপুরের ডামুড্যার শিধলকুরা গ্রামের মোক্তার হোসেন সকালে অসুস্থ মাকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। জাজিরার সাত্তার মাদবর, মঙ্গলমাঝির ঘাট থেকে লঞ্চে শিমুলিয়া ঘাট হয়ে ঢাকা যাবেন। মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সাত্তার মাদবর, মঙ্গলমাঝির ঘাটের যেখানে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছে, সেখান থেকে আধা কিলোমিটার পথ হেঁটে অসুস্থ মাকে নিয়ে লঞ্চে উঠেছেন। আতঙ্ক নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিতে হবে। এভাবেই গত ২৫ বছর যাতায়াত করেছেন তিনি। অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও ভেবে ভালো লাগছে, আজই ভোগান্তির শেষ দিন। মায়ের চিকিৎসা শেষে নতুন সেতু দিয়ে বাড়ি ফিরবেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে জাজিরার সাত্তার মাদবর, মঙ্গল মাঝির ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাবাজার ঘাট বন্ধ করে দেওয়ায় সাত্তার মাদবর, মঙ্গল মাঝির ঘাট ব্যবহার করে যাত্রীরা চলাচল করছেন। দুই নৌপথের লঞ্চ, স্পিডবোট ও তিনটি ফেরি চলাচল করছে। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের চাপ থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ ছিল কম। পদ্মা নদীতে স্রোত ও ঢেউ থাকায় পারাপার হতে যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথের মুনমুন লঞ্চের চালক (মাস্টার) শেখ আয়নাল প্রথম আলোকে বলেন, কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দিনের পর দিন লঞ্চ নিয়ে নৌপথ পাড়ি দিতে পারিনি। চোখের সামনে অনেক দুর্ঘটনা দেখেছি। ঘাটে এসে যাত্রীরা পার হতে না পেরে বসে থাকতেন, এটা কী কষ্টের, তা কাউকে বোঝানো যাবে না। রাত পোহালেই সেই কষ্টের অবসান হচ্ছে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাসিন্দা জামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে থাকেন। আজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন। বাংলাবাজার ঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি জাজিরার সাত্তার মাদবর, মঙ্গল মাঝির ঘাটে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বছরের পর বছর আমরা ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়েছি। আজ ভোগান্তির যাত্রার শেষ দিন। ফেরার পথে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গাড়িতে করে পদ্মা সেতু পার হব।’

বিআইডব্লিউটিএর মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯৬ সালে নৌপথটিতে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। ঝড়, বৃষ্টি ও কুয়াশায় মানুষ ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়েছেন। সেতু চালু হওয়ার পর এই দুই নৌপথে আর যাত্রী পারাপার করা হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন