বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ভাঙন ঠেকাতে পাথালিয়াকান্দি, সরদারকান্দি ও খলিফাকান্দি এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলেছে পাউবো, কিন্তু ভাঙন বন্ধ হচ্ছে না। তাই ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে ১০টি গ্রামের মানুষ সংগঠিত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছর বর্ষায় জাজিরা উপজেলার পালেরচর, বড়কান্দি, জাজিরা ও বিলাশপুর ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা যায়। তখন গ্রামগুলোর অন্তত দুই শ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাঙন ঠেকাতে পাথালিয়াকান্দি, সরদারকান্দি ও খলিফাকান্দি এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলেছে পাউবো, কিন্তু ভাঙন বন্ধ হচ্ছে না। তাই ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে ওই ১০টি গ্রামের মানুষ সংগঠিত হন। আজ তাঁরা রঞ্জন ছৈয়ালকান্দি গ্রামে পদ্মার তীরে মানববন্ধন করেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে কয়েক শ মানুষ উপস্থিত হন। তাঁরা এ সময় ‘ত্রাণ নয়, ভাত নয়, বাঁধ চাই—বাঁচতে চাই’ এমন স্লোগান দিতে থাকেন।

আজ মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রঞ্জন ছৈয়ালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা চান মিয়া সিকদার। গত বছর ভাঙনে তাঁর বসতঘর ও ১০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। গত ১০ বছরে তাঁদের পরিবারের ২০০ বিঘা ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সব হারিয়ে এখন পাশের আবদুল ব্যাপারীরকান্দি গ্রামে ফসলি জমিতে আশ্রয় নিয়েছি। সহায়তা হিসেবে ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু আমরা তো ত্রাণ চাই না, বাঁচার জন্য বাঁধ চাই।’

রঞ্জন ছৈয়ালকান্দি গ্রামের মো. সেন্টু বলেন, ‘পদ্মার ভাঙনে আমরা নিঃস্ব। প্রতিবছর বর্ষা এলে ভাঙন আমাদের জীবন বির্পযস্ত করে দেয়। আমরা এর থেকে বাঁচতে চাই, পরিত্রাণ চাই। আমাদের সব থাকতে কেন ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে হবে? পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে বিলাশপুর পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধের দাবিতে আন্দোলন করছি। আগামী বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব প্রথম আলোকে জানান, শরীয়তপুরে দুটি বড় নদী থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন চলছে। নড়িয়া ও জাজিরায় নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দুটি বড় কাজ চলছে। সদরে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। আর জাজিরার বিলাশপুর থেকে পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। তার প্রতিবেদন ও পরামর্শ পাওয়ার পর পাউবো পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। আর তাৎক্ষণিক ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন