বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট ও ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে এই পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পর্যবেক্ষণ চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার পানি পর্যবেক্ষণের জন্য ভারত থেকে আসা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপঙ্কর দাস। দুই সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরও আছেন কমিশনের সহকারী পরিচালক প্রকাশ এস। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে যৌথ নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী টি এম রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যর প্রতিনিধিদল ফারাক্কার ভাটিতে পানি পর্যবেক্ষণ করছে।

১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুসারে, শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই পর্যবেক্ষণ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা ১০ দিন পরপর পানিপ্রবাহের পরিমাপ প্রকাশ করবেন।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ১০ দিনে ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম থাকলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই ৫০ শতাংশ করে পানি পাবে। দ্বিতীয় ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে ৭০ হাজার কিউসেক থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক প্রবাহ থাকলে, বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত। তৃতীয় ১০ দিন ফারাক্কা পয়েন্টে ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি পানিপ্রবাহ থাকলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক পানি। বাকিটা পাবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত উভয়ই ১০ দিন পরপর নিশ্চিতভাবে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে।

হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রথম ১০ দিনে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৬৯ হাজার ১১৪ কিউসেক। একই সময়ে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৯৩ হাজার ৯৫৭ কিউসেক।

এ প্রসঙ্গে হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রইচ উদ্দিন বলেন, দুই দেশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি প্রথম ১০ দিনের পানির হিসাব প্রকাশ হবে। তবে প্রাথমিকভাবে এবার পদ্মায় পানি বেশ ভালো পাওয়া গেছে। গত বছর শুরুতে পদ্মায় পানিপ্রবাহ ছিল ৮৮ হাজার কিউসেক। এবার এর অনেক বেশি পানি মিলেছে। বছরজুড়েই পানি ভালো মিলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন