স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, প্রতিদিনের মতো গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে দৌলতদিয়ার যদু ফকিরপাড়ার জেলে মোনতাজ শেখ ওরফে মোনতাজ হালদার জাল নিয়ে মাছ শিকারে বের হন। উপজেলার গুদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে অবস্থান নেন তাঁরা। সারা রাত নদীতে কয়েক দফা জাল ফেলে তেমন ভালো কোনো মাছ ধরতে পারেননি। শেষে সকাল ছয়টার দিকে পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেলে টেনে তোলার সময় জালের ঝাঁকুনিতে বুঝতে পারেন, বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলতে দেখতে পান, বড় একটি পাঙাশ মাছ।

জেলেরা আরও জানান, মাছটি বিক্রির জন্য সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে স্থানীয় আবদুল হালিম সরদারের আড়তে মাছটি তোলা হয়। তাঁরা মাছটি ওজন করে দেখেন ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম। এ সময় ডাকে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা ও লাল চাঁদ খান ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে মোট ২৯ হাজার ২৫০ টাকায় মাছটি কিনে নেন।

জেলে মোনতাজ হালদার বলেন, অনেক দিন পর পদ্মা নদীতে এত বড় পাঙাশের দেখা মিলল। বলা চলে এই বছর এই প্রথম। তাঁরা গতকাল সারা রাত নদীতে জাল ফেলে কোনো মাছ না পেয়ে হতাশ হয়েছিলেন। ভোরের দিকে জালে এমন একটি মাছ পড়েছে, সব কষ্ট এক মাছে দূর হয়েছে। এ ধরনের মাছ মাঝেমধ্যে ধরা পড়লে জেলেদের দুঃখ থাকত না।

মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা ও লাল চাঁদ খান বলেন, মৌসুমের সবচেয়ে বড় পাঙাশ এটি। মাছটি পেয়ে জেলেদের সঙ্গে তাঁরাও অনেক খুশি হয়েছেন। মাছটি ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে ২৯ হাজার ২৫০ টাকায় কিনে বর্তমানে ৬ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। কেজিপ্রতি ১০০–২০০ টাকা করে লাভ হলেই বিক্রি করে দেবেন। ইতিমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান জেলেদের বরাত দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদী ভরাট হয়ে গেলে খাবারের জন্য বড় বড় মাছ মাঝ নদীতে চলে আসে। খাদ্যের খোঁজে বড় মাছগুলো সাধারণত উজানে ছুটতে থাকে। তখন জেলেদের জালে মাছগুলো ধরা পড়ে। সাড়ে ২২ কেজির পাঙাশ মাছ ধরা পড়া অনেক বড় সুখবর। বর্ষায় আরও ভালো মাছ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন