দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট পরিদর্শনে আসেন। বেলা একটার দিকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ফেরি বেগম রোকেয়াকে টেনে শিমুলিয়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর দুপুরে দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি করা হয়। বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাহানকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, ফেরির পথনির্দেশক আলো জ্বলছিল কি না, চালক (মাস্টার) ঘুমিয়ে ছিলেন কি না, ফেরি চালানোয় কোনো অবহেলা ছিল কি না—এসব খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

বিআইডব্লিটিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (মাওয়া ঘাট) আহম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ফেরি চ্যানেলে ঘুরতে সমস্যা হয়। ওই কারণে দুটি ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে একজন গাড়িচালক মারা গেছেন এবং একজন নিখোঁজ আছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেরি সুফিয়া কামাল ৩০টি যানবাহন নিয়ে শরীয়তপুরের সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যাচ্ছিল। একই নৌপথে ৩৪টি যানবাহন ও অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট অভিমুখে যাচ্ছিল ফেরি বেগম রোকেয়া। রাত সাড়ে তিনটার দিকে দুটি ফেরি পদ্মা নদীর টার্নিং পয়েন্ট জাজিরা প্রান্তে পৌঁছালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুটি ফেরির সামনের অংশ। বিকল হয়ে যায় বেগম রোকেয়া ফেরির গাড়ি ওঠানামার রেম্প।

এ সময় সুফিয়া কামাল ফেরিতে থাকা একটি গাড়ির চাপায় পড়ে ঘটনাস্থলেই খোকন শিকদার নামের এক চালক নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। আর বেগম রোকেয়া ফেরিতে থাকা পিকআপচালক শামিম মোল্যা নিখোঁজ হন। নিহত খোকন ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার হারুন শিকদারের ছেলে। পটুয়াখালী থেকে মাছ নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন