দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলেদের  জালে ধরা পড়া প্রায় ৩০ কেজি ওজনের বাগাড়। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটসংলগ্ন চান্দু মোল্লার আড়ত, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী, ৪ সেপ্টেম্বর
দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া প্রায় ৩০ কেজি ওজনের বাগাড়। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটসংলগ্ন চান্দু মোল্লার আড়ত, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ছবি: প্রথম আলো

পদ্মা নদীতে ধরা পড়েছে তিনটি বাগাড় মাছ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ওজন ৩০ কেজি। আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। চলতি মৌসুমে এত বড় বাগাড়ের দেখা মিলল এই প্রথম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বড় বাগাড়টি সকালে দৌলতদিয়া বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় এক আড়তে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা মাছটি ৯৫০ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার টাকায় কিনে নেন। তিনি এখন প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ১৫০ টাকা হাঁকছেন। তবে কমবেশি হলে তিনি বিক্রি করে দেবেন। এ ছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার আরেক মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা ৩২ কেজি ওজনের দুটি মাঝারি আকারের বাগাড়, একটি কাতল, একটি রিঠা মাছ ৩৫ হাজার টাকায় কেনেন। এর মধ্যে একটি বাগাড়ের ওজন ১৮ কেজি ও আরেকটির ওজন ১৪ কেজি।

দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার আরেক মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা ৩২ কেজি ওজনের দুটি মাঝারি আকারের বাগাড়, একটি কাতল, একটি রিঠা মাছ ৩৫ হাজার টাকায় কেনেন। এর মধ্যে একটি বাগাড়ের ওজন ১৮ কেজি ও আরেকটির ওজন ১৪ কেজি।
বিজ্ঞাপন

আজ সকালে দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজার থেকে মাছটি কিনে আনার পর চান্দু মোল্লা ৫ নম্বর ফেরিঘাট-সংলগ্ন তাঁর আড়তে নিয়ে এলে সেখানে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। ফেরি পারাপারের জন্য ঘাটে আসা অনেক মানুষও মাছটি এক নজর দেখে নেন।

মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকার জেলে হজরত আলী মণ্ডলের জালে বাগাড়টি ধরা পড়ে। হজরত আলী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন জেলেকে নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যান। রাতে তেমন একটা মাছ না পাওয়ায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েন। রাত শেষে জাল তুলতে থাকলে জাল ভারী অনুভব করেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে। পরে জাল তোলার পর বড় আকারের বাগাড়টি দেখতে পান।

মাছটি দেখতে এসেছিলেন ফেরিঘাট এলাকার মাইনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগেও বড় বড় বাগাড় এই দৌলতদিয়া ঘাট থেকে দেখেছি। তবে এত বড় মাছ আমার চোখে পড়েনি। এ ধরনের মাছ খুব সহজে দেখা মেলে না। সরকারিভাবে এ ধরনের বড় বাগাড় মাছ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

default-image

দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে আরেক জেলে পরান হালদারের জালে আরও দুটি বাগাড়, একটি কাতল ও একটি রিঠা মাছ ধরা পড়েছে। পরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা মাছগুলো পরান হালদারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় কিনে নেন।

মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা বলেন, মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে পরান হালদার গতকাল রাতে আরিচার কাছ থেকে জাল ফেলতে ফেলতে গোয়ালন্দে চলে আসেন। রাত শেষে দৌলতদিয়ার পদ্মা নদী থেকে ১৮ ও ১৪ কেজি ওজনের দুটি বাগাড়, ৮ কেজি ওজনের একটি কাতল ও দেড় কেজি ওজনের একটি রিঠা মাছ তাঁর জালে ধরা পড়ে। সব মাছ সকালে তিনি দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে নিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় আড়তদার আনোয়ার খাঁর ঘরে মাছ নিলামে তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি (মাসুদ) বাগাড় দুটি ৮৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন। একই সঙ্গে তিনি কাতল মাছটি ৭৫০ টাকা কেজি দরে ও রিঠা মাছ ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কেনেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, ‘পদ্মা নদীতে মাঝেমধ্যে এ ধরনের মাছের দেখা মিলছে। আমার ধারণা, এই মৌসুমে পদ্মায় আরও বড় বড় মাছ ধরা পড়বে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন