বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শীত মৌসুমে পদ্মায় পানি কমে গেছে। নদীর পাড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানে স্থানে জেগে উঠেছে ছোট ছোট চর। বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা বাজার থেকে পূর্ব দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় পাঁচটি বেড়া দেওয়া হয়েছে। একটি বেড়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে এবং চারটি উত্তর পাড়ে। এসব বেড়ার দৈর্ঘ্য ৫০০-৭০০ মিটার। উড়াকান্দা বাজারের পূর্ব দিকে নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দেওয়া। এসব বেড়ায় কারেন্ট জাল পাতা হয়েছে।

এ সম্পর্কে রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান মো. নুরুজ্জামান বলেন, নদীর স্বাভাবিক গতিপথে নদীকে চলতে দিতে হবে। অপর দিকে মাছের আকার ও সময় অনুযায়ী মাছ শিকারেও কিছু নিষেধাজ্ঞা আছে। নদীতে বেড়া দেওয়ার কারণে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। এ ছাড়া নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি নদীর পাড় ভাঙনেরও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকটি বেড়া দিতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়। প্রধানত ইলিশ মাছ শিকার করার জন্য এসব বেড়া দেওয়া হয়। তবে পাঙাশ থেকে শুরু করে বেলে, পাবদা, আইড়, রিটা প্রভৃতি মাছও পাওয়া যায়। এদিকে বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি বেড়া দেওয়ার কারণে সাধারণ জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে সমস্যায় পড়েন।

কুঠুরাকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীতে বাঁশের বেড়া রয়েছে। শহররক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে এর দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের বেড়ার পাশের নৌকায় দুজন দুপুরের খাবারের জন্য রান্না করছেন। এই বেড়ার প্রধান অংশীদার স্থানীয় শামীম শেখ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি গোপালবাড়ি এলাকায়। অন্য বেড়াগুলোর মালিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাড়ি পাবনার দিকে বলে জানা গেছে।

শামীম শেখ বলেন, ‘নদীতে তেমন মাছ নেই। আগের মতো আর তেমন মাছ পড়ে না। এ কারণে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এপার এবং ওই পাড়ের জেলেরা মিলেমিশে বেড়া দিয়েছেন। নদীর দুই পাড়েই বেড়া আছে। প্রতিদিন দু-তিনবার মাছ তোলা হয়। এখন ইলিশ তেমন পাওয়া যায় না। আমরা জাটকা ধরি না। কিছুদিন পরে বেড়া তুলে ফেলব।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করার কোনো সুযোগ নেই। কয়েক দিন ধরে সদর উপজেলায় কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। এসব কারণে তাঁরা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাননি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেড়া উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন