default-image

পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করে। গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাত যত বাড়ে, যানজট তত দীর্ঘ হয়। রাতের যানজট আজ সকালে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী পার্থ সারথি বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দিনভর পদ্মা সেতু দেখতে আসা মানুষ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে এসেছেন। সন্ধ্যার পর তাঁরা মাওয়ামুখী হতে শুরু করেন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষেরও ঢাকায় ফেরা শুরু হয়। এ কারণে সন্ধ্যার পর টোল প্লাজার সামনে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। তখন টোল প্লাজার সামনে থেকে সংযোগ সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। সকালেও যানবাহনের চাপ আছে।

রাত ১১টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়কে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মেহেদী হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার একটি সরকারি দপ্তরে চাকরি করি। সকাল সকাল অফিসে যেতে হবে। তাই গ্রামের বাড়ি থেকে রাতেই রওনা হই। ভেবেছিলাম রাতে সড়ক ফাঁকা থাকবে, নির্বিঘ্নে যেতে পারব। কিন্তু এসে দেখি সড়কে দীর্ঘ যানজট।’

বরিশাল শহরের বাসিন্দা অনিক হাসান ঢাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা। তিনি রাতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে আসেন। যানজটের কারণে তাঁকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেতুতে উঠতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দিনে ঢাকায় যানজট থাকে, এ ভয়ে রাতে গ্রাম থেকে রওনা হয়েছি। কিন্তু পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে তিন কিলোমিটার যানজট অতিক্রম করে সেতুতে উঠতে এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।’

টোল প্লাজার ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সোমবার দিনে কোনো যানজট ছিল না। সন্ধ্যার পর যানজট শুরু হয়। আমাদের ছয়টি বুথ দিয়ে যানবাহন টোল দিয়ে সেতুতে উঠতে পারে।একেকটি গাড়ির টোল দিতে সর্বচ্চ ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। যানজট হলেও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।’

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গাড়ির চাপের কারণে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানার পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন